নতুন নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে যমুনা ব্যাংকের এমডি মির্জা ইলিয়াছ উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, আমানতের সুদ সাড়ে ৫ শতাংশ করা হলেও কল মানি ও বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা রাখলে সুদ মিলছে ১ শতাংশের কম। তাহলে ব্যাংক চলবে কীভাবে। সুদহার এখন বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে ভালো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিনির্ধারণী সুদহার ঠিক করবে। পাশাপাশি রিজার্ভ রেপো চালু করে দেবে। এতে আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতা উভয়ই ভালো থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দিষ্ট করে দিয়েছে, ব্যক্তিপর্যায়ের মেয়াদি আমানত এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন ফান্ড বা তহবিল হিসেবে রাখা মেয়াদি আমানতে এই সুবিধা মিলবে। এর বাইরে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যেসব আমানত ব্যাংকে থাকে সেগুলোর বিপরীতে বাড়তি সুদ মিলবে না।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, সুদহার বেঁধে দেওয়ার এই উদ্যোগ ভালো। তবে ঠিক কত টাকা পর্যন্ত আমানতে এই সুবিধা দেওয়া যাবে, তার একটা সীমা ঠিক করা গেলে ভালো হতো।
জানতে চাইলে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, যেভাবে ঋণ ও আমানতের সুদহার ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে, তাতে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও বিদেশি ব্যাংকের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে। এতে ব্যবসার খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সুদহার বেঁধে দেওয়ার কারণে আমাদের ৫০ কোটি টাকা আয় কমে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোতে করোনার মধ্যে এক লাখ কোটি টাকার বেশি আমানত এসেছে। তবে ব্যাংকগুলোর সুদ খরচ আগের চেয়ে কমে গেছে। আবার করোনার মধ্যে ঋণ কম বিতরণ হলেও ব্যাংকগুলো মুনাফা করেছে আগের চেয়ে বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের প্রথম আলোকে বলেন, করোনার মধ্যেও ব্যাংকগুলো ভালো আমানত পেয়েছে। আগের চেয়ে আমানতের পেছনে ব্যাংকের খরচ কমে গেছে। এ কারণে সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থে আমানতের সুদ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শুধু ব্যক্তিপর্যায়ে আমানতকারী এই সুবিধা পাবেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতে এই সুদ কার্যকর হবে না।
Discussion about this post