সপ্তাহজুড়ে অবরোধে বিপর্যস্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা সচল করতে আজ সব ব্যাংকের সব শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সপ্তাহে একদিন ছুটি না পাওয়ায় এ ঘোষণায় ক্ষুব্ধ ব্যাংক কর্মকর্তারা। এছাড়া শুক্রবার ব্যাংক খোলা রাখায় ব্যাংকের ব্যয় বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রধান নির্বাহীরা। যদিও টানা অবরোধে এখনো টাকাশূন্য রাজধানীর অনেক এটিএম বুথ। আর রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন শাখায়ও নগদ অর্থের সংকট রয়ে গেছে।
এদিকে আজ সব ব্যাংক খোলা থাকার পাশাপাশি ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (আইবিবি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন ৩২ হাজার পরীক্ষার্থী ব্যাংক কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মাহফুজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, গ্রাহকস্বার্থ বিবেচনায় সব ব্যাংক শাখা শুক্রবার খোলা থাকবে। এতে অন্য কোনো বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়নি।
জানা যায়, টানা অবরোধের কারণে ব্যাংকগুলোর সার্বিক লেনদেন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। নিরাপত্তার অভাবে অনেক গ্রাহক ব্যাংকিং সেবা নিতে যাননি। ব্যাংকগুলোও নিরাপত্তার অভাবে এটিএম বুথগুলোয় টাকা সরবরাহ করতে পারেনি। ফলে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় নেমে আসে। রাজধানীর বাইরে অনেক শাখা বড় চেকের বিপরীতে তাত্ক্ষণিক নগদ অর্থ দিতে পারেনি। এতে বিপাকে পড়েন একাধিক শাখা ব্যবস্থাপক। এ কারণে আজ দেশের সব ব্যাংকের শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে তফসিলি ব্যাংকগুলোর সব শাখা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসাপেক্ষে খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া শনিবার শিল্পঘন এলাকায় তফসিলি ব্যাংকের শাখা খোলা রাখার যে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।
ব্যাংকের শাখাপর্যায়ের কর্মকর্তারা এ ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, রাজধানীর প্রায় সব শাখা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের (এডি) অনুমোদিত হওয়ায় শনিবারও ব্যাংক খোলা থাকে। ফলে শুক্রবারও অফিস করাটা দুঃসহ। ব্যাংক কর্মকর্তাদের পরিবার আছে, সেখানে তাদের সময় দিতে হয়।
এদিকে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা বলছেন, বড় ব্যাংকগুলোর ২০০-৩০০ শাখা রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শাখা রয়েছে হাজারের বেশি। নির্দেশনার ফলে সব মিলিয়ে দেশে সাড়ে ৮ হাজার শাখা খোলা রাখতে হবে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে ব্যবসা এমনিতেই কমে এসেছে। এর পরও শুক্রবার শাখা খোলা রাখতে হলে ব্যাংকের ব্যয় বেড়ে যাবে। কারণ শুক্রবার সব কর্মকর্তাকে পৃথকভাবে ভাতা দিতে হবে।
তাদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব শাখা খোলা রাখার নির্দেশ না দিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিলে ভালো হতো। এতে প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা দিয়ে কিছু শাখা খোলা রাখা সম্ভব হতো। এর আগেও শনিবার সব শাখা খোলা রাখার নির্দেশ পালন করে লোকসান গুনতে হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকের মুনাফায় ব্যাপক প্রভাব পড়বে।
এদিকে আজ ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন আইবিবির পরীক্ষার্থীরা। আজ আইবিবির ৭৮তম ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষা শুরু হবে। ৬, ১৩ ও ২০ ডিসেম্বর ডিপ্লোমা পরীক্ষার সময়সূচি রয়েছে। গতকাল আইবিবির মহাসচিব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্বঘোষিত সময়সূচি মোতাবেক যথারীতি ডিপ্লোমা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। চলতি মেয়াদে ৩২ হাজার ব্যাংক কর্মকর্তা আইবিবির পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন বলে জানা গেছে। আইবিবির মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ গোলাম হায়দার এ প্রসঙ্গে বলেন, ঘোষিত সময় অনুযায়ীই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে গতকালও রাজধানীর একাধিক ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা পাওয়া যায়নি। মতিঝিলের ডাচ্-বাংলা, কারওয়ান বাজারে ব্র্যাক ব্যাংক এবং প্রাইম ব্যাংকের ফার্মগেট, পান্থপথ, ধানমন্ডি ও গুলশানের কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা পাওয়া যায়নি। ফলে গতকালও এটিএম কার্ড গ্রাহকদের ভোগান্তি কমেনি। এদিকে গতকাল বেসরকারি ৩০টি ব্যাংক নগদ টাকার চাপ সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কারেন্সি অফিসার সাইফুল ইসলাম খান। পুলিশি নিরাপত্তায় ব্যাংকগুলোকে টাকা নিতে দেখা গেছে।
এদিকে ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা পৌঁছাতে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থ বহনের সময় পুলিশ এসকর্টের মাধ্যমে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এক্ষেত্রে সেবাপ্রত্যাশী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে টেলিফোনে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। নম্বরগুলো হলো— ৯৫৫৯৯৩৩, ৯৫৫১১৮৮, ৯৫১৪৪০০, ০১৭১৩-৩৯৮৩১১, ১৭১৩-৩৯৮৭৬০ ও ০১৭১৩-৩৭৩১১৩। এছাড়া ৯৯৯২২২২ ও ৯৯৯২২২৩ নম্বরেও যোগাযোগ করা যাবে।
– See more at: http://bonikbarta.com/first-page/2013/12/06/24695#sthash.vkBRgY3v.dpuf
Discussion about this post