কৃষি উত্পাদনে বৈচিত্র্য আনতে এ খাতে ঋণের আওতা বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে মালটা, আমড়া ও সফেদাজাতীয় ফলচাষীরা ঋণ পাবেন। আগামী অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালার আওতায় তাদের ঋণ দেয়ার ঘোষণা থাকবে। রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে কেঁচো কম্পোস্ট সারেও অর্থায়ন করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, এর মাধ্যমে বিদেশী ফলের ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য উত্পাদনেও বৈচিত্র্য আসবে। নানা ধরনের কৃষিপণ্য উত্পাদনে আগ্রহী হবেন কৃষক।
দেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদানের কথা বিবেচনায় নিয়ে কৃষি ও পল্লী ঋণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিবর্তন আনা হয়েছে কৃষিঋণ বিতরণ ও তদারকিতে। প্রায় সব বাণিজ্যিক ও বিদেশী ব্যাংককে কৃষিঋণ বিতরণে বাধ্য করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো তিন বছর ধরে কৃষি খাতে তাদের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ফলে প্রতি বছর কৃষিঋণের তালিকায় নতুন নতুন খাত ও পণ্য যুক্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ফল আমদানি করতে হয়। এটা কমাতেই নতুন নতুন ফল চাষকে ঋণের আওতায় আনা হচ্ছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশে আমড়া ও সফেদা ফলের চাষ হচ্ছে। সীমিত পরিসরে হলেও দেশের দুটি অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে মালটার চাষও হচ্ছে।
ফল চাষের পাশাপাশি কেঁচো কম্পোস্ট সার প্রস্তুতকারকদেরও ঋণের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কী পদ্ধতিতে ব্যাংক অর্থায়ন করবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ঘোষণা করা হবে আগামী জুলাইয়ে। এ লক্ষ্যে কাজও শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবারের নীতিমালায় আরো বেশি সংখ্যক জনগণকে ব্যাংকিং সুবিধায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে গভর্নর ড. আতিউর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও খাদ্যপণ্য আমদানিতে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার খরচ হতো। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়ত। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যেই আমরা কৃষিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল লক্ষ্য দারিদ্র্য নির্মূল। এটা করতে হলে কৃষি খাতকে উত্সাহিত করা ছাড়া বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘নতুন কৃষি ও পল্লী ঋণের মাধ্যমে দেশী ফলের উত্পাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আম, জাম, কলা, কাঁঠাল, আমড়া, সফেদা, জাম, আনারসের মতো দেশী ফলের বাণিজ্যিক উত্পাদন বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছি আমরা। ফলে অভ্যন্তরীণ উত্পাদন বাড়বে এবং বিদেশী ফলের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে।’
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষি ও পল্লী ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ বিতরণ করেছে। পুরো অর্থবছরে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার ১৩০ কোটি টাকা। সাত মাসেই বিতরণ হয়েছে ৭ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। তবে এ সময়ে সোনালীসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্ধেকেরও নিচে। বছর শেষে তারা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
Discussion about this post