চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ সময়ে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে ২৯৯ কোটি টাকা। যদিও বেশির ভাগ ব্যাংকের খেলাপি ঋণই এ সময় বেড়েছে। আর মার্চ শেষে প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হওয়ার তালিকায় নতুন করে নাম লিখিয়েছে আরো দুটি ব্যাংক। এ নিয়ে দেশী-বিদেশী ১১টি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৫৮ কোটি ২২ লাখ টাকা।
ব্যাংকের ঝুঁকি বিবেচনা করে নির্দিষ্ট হারে প্রভিশন বা ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি রাখতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, মার্চ শেষে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ২১ লাখ টাকা। এ সময়ে সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি ৪ হাজার ৬০৬ কোটি ৬৫ লাখ, অগ্রণী ব্যাংকের ২ হাজার ৮৩২ কোটি ৭৩ লাখ ও রূপালী ব্যাংকের ৮০৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। বেসরকারি খাতের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি ৭ কোটি ২৮ লাখ ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৬৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। বিদেশী ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ১৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ১ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৪ লাখ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) ৭৩ কোটি ৫৮ লাখ ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমান সরকার বণিক বার্তাকে বলেন, প্রভিশন সংরক্ষণের জন্য আমাদের জুন পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে।
ডিসেম্বর-মার্চ সময়ে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৮ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে পূবালী ব্যাংকের ১৫৭, ইসলামী ব্যাংকের ৮৬০, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৫৪৪, প্রাইম ব্যাংকের ৬৮১, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ২৮৭, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২৭২, এক্সিম ব্যাংকের ৪৬১ ও ব্যাংক এশিয়ার ২৫২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের ১ হাজার ৪৯৮, জনতা ব্যাংকের ৩৬০ ও অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৯২৮ কোটি টাকা। তবে একই সময়ে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে ২৯৯ কোটি টাকা।
ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘নতুন ঋণ নীতিমালা ও সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। শিল্প খাতে যেসব মেশিনারিজে আমাদের বিনিয়োগ আছে তার কিছু গ্রহীতা কিছু কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। তবে জুনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।’
Discussion about this post