ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মান যাচাইয়ে প্রথমবারের মতো তৈরি করা প্রতিবেদনে রেড জোনে ১০টি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। এক মাসের মধ্যে উন্নতির জন্য কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানকে। এছাড়া তাদের সঙ্গে পৃথক সভা করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মার্চভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে ১৭টি প্রতিষ্ঠান ইয়েলো ও তিনটি গ্রিন জোনে রয়েছে।
লাল তালিকায় থাকা ১০ প্রতিষ্ঠান হলো— বাংলাদেশ ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিএফআইসি), ফারইস্ট ফিন্যান্স
অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট
লিমিটেড (এফএফআইএল), ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), আইডিএলসি ফিন্যান্স, ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স কোম্পানি (আইআইডিএফসি), ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল), মাইডাস ফিন্যান্সিং লিমিটেড (এমএফএল), রিলায়েন্স ফিন্যান্স লিমিটেড (আরইএফএল), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স লিমিটেড (পিএলএফএল) ও ইউনিয়ন ক্যাপিটেল লিমিটেড (ইউসিএল)।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, রেড জোনে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক মাসের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। শিগগিরই তাদের সঙ্গে পৃথক সভা করে দিকনির্দেশনা দেয়া হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মান যাচাইয়ে প্রথমবারের মতো এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
আইআইডিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমরা অনেক ক্ষেত্রে ইয়েলো ও গ্রিন জোনে আছি। তবে সামগ্রিকভাবে রেড জোনে পড়ে গেছি। ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করার কারণেই এমনটি হয়েছে। আমাদের ঝুঁকি নেয়া ছাড়া বিকল্পও নেই। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এ থেকে বেরিয়ে আসার।’
জানা গেছে, গত ১৭ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কী মানের, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের জন্য বিশেষ সফটওয়্যার চালু করে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর মতো এসব প্রতিষ্ঠান তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ হয়ে যাবে। রেটিংয়ের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ তালিকা প্রস্তুত হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে তাদের স্ট্রেস টেস্টিং রেটিং প্রস্তুত করা হয়। এ রেটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে এখন থেকে তিনটি ক্যাটাগরিতে এনবিএফআইগুলোকে ভাগ করা হবে। প্রথম তালিকার প্রতিষ্ঠানগুলো থাকবে সাধারণ ক্যাটাগরিতে। এর পরের ধাপের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হবে দুর্বল ও তৃতীয় ধাপের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এর পর এসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেবে। এর ভিত্তিতে মার্চভিত্তিক তৈরি করা প্রতিবেদনে সাধারণ ক্যাটাগরিতে তিনটি প্রতিষ্ঠান, দুর্বল ধাপে ১৭টি ও সমস্যাগ্রস্ত ধাপে ১০টি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।
মাইডাস ফিন্যান্সের এমডি শফিক-উল-আলম বলেন, ‘বড় ১০টি প্রতিষ্ঠানের কাছেই আমাদের বকেয়া ঋণের ৬০-৭০ শতাংশ পড়ে আছে। পরিস্থিতির কারণে তারাও সাড়া দিচ্ছে না। তবে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি অর্থ উদ্ধারের। আশা করছি, শিগগিরই সব ঠিক হয়ে আসবে।’
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, রেড জোনে থাকার অর্থ হলো, এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বড় ধরনের ঝুঁকি নিচ্ছে; যা যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। এসব কারণে এসব প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ তদারক করার প্রয়োজন পড়েছে।
Discussion about this post