টানা অবরোধের কারণে অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথে টাকা সরবরাহ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। শুক্রবার অবরোধের আওতামুক্ত থাকলেও এদিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় বুথে টাকা জমা করতে পারেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহক।
ভিড় এড়াতে অবরোধের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিংমলে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের গ্রাহক ফারহানা জেবিন। শপিংমলের এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করে দুই সন্তানের জন্য কেনাকাটা করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু শপিংমলে এসে দেখেন, এটিএম বুথে টাকা নেই। আশপাশের কাঁঠালবাগান ও গ্রিন রোডের এটিএম বুথে গিয়েও তিনি টাকা পাননি। ফলে ভেস্তে যায় তার কেনাকাটার পরিকল্পনা। একইভাবে ব্র্যাক, ব্যাংক এশিয়া, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, সিটি, এবি, ইসলামী, পূবালীসহ বেশির ভাগ ব্যাংকের এটিএম বুথেই টাকা পাওয়া যায়নি।
ব্যাংকগুলো এটিএম সেবা দিলেও এসব বুথের নিরাপত্তা ও টাকা জমা করার দায়িত্ব পালন করে বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো। বর্তমানে ৩৮টি ব্যাংকের নিরাপত্তা ও টাকা জমা দেয়ার দায়িত্ব পালন করে এলিট ফোর্স বাংলাদেশ। এছাড়া কয়েকটি ব্যাংককে এ সেবা দেয় গ্রুপ ফোর।
সর্বশেষ গত সপ্তাহের সোমবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো এটিএম বুথে টাকা জমা করেছিল। এরপর মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতি অবরোধ থাকায় টাকা জমা হয়নি। শুক্রবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় সেদিনও এটিএম বুথগুলো ছিল টাকাশূন্য। শনিবার থেকে দ্বিতীয় দফা টানা অবরোধ শুরু হওয়ায় টাকাশূন্য হয়ে পড়ে রাজধানীর বেশির ভাগ এটিএম বুথ।
নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ‘আমরা ব্যাংকের পক্ষে বুথের নিরাপত্তা, টাকা জমা ও পরিবহনের কাজ করি। তবে হরতাল-অবরোধে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় ব্যাংক নেয় না। এছাড়া এসব দুর্ঘটনায় বীমা সুবিধাও পাওয়া যায় না। একটি গাড়িতে ২-৩ কোটি টাকা থাকে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানই ঝুঁকি নেয় না। সম্প্রতি যাত্রাবাড়ী এলাকায় এলিট ফোর্সের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো আতঙ্কে রয়েছে। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ঝুঁকি নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের বুথে টাকা জমা করা হয়েছে।’
এলিট ফোর্সের ক্যাশ ইন ট্রানজিট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী মহাব্যবস্থাপক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে হরতাল-অবরোধে আমরা টাকা জমা করি না। কারণ এ সময়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ব্যাংক এর দায় নেয় না। অবরোধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত টাকা পাওয়া যাবে না। তবে ব্যাংক ইচ্ছা করলে শুক্রবার খোলা রেখে আমাদের দিয়ে বুথে টাকা জমা করাতে পারে।’
গ্রুপ ফোরের ক্যাশ বিভাগের সিনিয়র নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, ‘হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচিতে আমরা এটিএম বুথে টাকা জমা করি না। এ কারণে বুথগুলোয় টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।’
এ প্রসঙ্গে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরীন বলেন, এটিএম বুথ সেবার সমস্যার মধ্যে সময়মতো টাকা জমা করতে না পারাটাও অন্যতম। যানজট ও অবরোধের কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়।
গতকাল মতিঝিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এটিএম গ্রাহকরা টাকা তোলার জন্য এক বুথ থেকে অন্য বুথে ঘুরছেন। কিন্তু টাকা পাচ্ছেন না। ব্র্যাক ব্যাংকের মতিঝিল শাখাসংলগ্ন বুথে টাকা থাকায় সেখানে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। ব্যাংক এশিয়ার কারিগরি ত্রুটির কারণে কয়েক দিন ধরে এটিএম সেবা বন্ধ।
– See more at: http://bonikbarta.com/first-page/2013/12/03/24347#sthash.Vuthx7DN.dpuf
Discussion about this post