
নির্দিষ্ট হারে প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ ব্যাংকগুলোর তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি ও বেসরকারি খাতের আরো একটি ব্যাংক। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক দুটি হলো অগ্রণী ও রূপালী। বেসরকারি ব্যাংকটি হলো আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। সব মিলিয়ে ডিসেম্বর শেষে মোট আটটি ব্যাংক নির্ধারিত হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারেনি।
ব্যাংকের ঝুঁকি বিবেচনায় ঋণের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে প্রভিশন (সঞ্চিতি) সংরক্ষণ করতে হয়। ঋণের মান বিবেচনায় নিয়ে ২০০৬ সালের ৫ জুন প্রভিশন সংরক্ষণের নির্দিষ্ট হার বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণীকৃত বা সাধারণ ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে দশমিক ২৫ থেকে ৫ শতাংশ হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। সাব-স্ট্যান্ডার্ড বা এসএমএ ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হয় ২০ শতাংশ। এছাড়া শ্রেণীকৃত বা খেলাপি হতে পারে, এমন সন্দেহমূলক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ ও মন্দ বা খেলাপি ঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়।
জানা গেছে, ডিসেম্বর শেষে পুরো ব্যাংক খাতের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৬২ কোটি টাকা; সেপ্টেম্বর শেষে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা।
ডিসেম্বর শেষে সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৪০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকের ১ হাজার ২৬৬ কোটি ও রূপালী ব্যাংকের ১২৬ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ৮ কোটি, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৪৩ কোটি ও কমার্স ব্যাংকের ৫৭ কোটি টাকা। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ১ হাজার ৩৯৫ কোটি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ২৪৪ কোটি টাকা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে।
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একরামুল হক বলেন, ‘মার্চে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হবে। আমাদের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে কিনা, সেখানেই বিষয়টি নির্ধারণ হবে। এর আগে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী, নিম্নমান, সন্দেহজনক ও মন্দ বা ক্ষতি— এ তিনটি পর্যায় বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকগুলোকে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। গত বছরের জুনের মাঝামাঝি এক প্রজ্ঞাপনে এ তিনটি ক্ষেত্রেই তিন মাস করে সময় কমিয়ে আনা হয়। ডিসেম্বরের আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিতে এ নীতিমালা কার্যকর হয়েছে। এতে এখন তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণকে নিম্নমান, ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে হলে সন্দেহজনক ও নয় মাসের বেশি হলে তাকে মন্দ বা ক্ষতি মানে বিবেচনা করা হচ্ছে।
Discussion about this post