বাংলাদেশ ব্যাংকের অদক্ষতার প্রশ্ন উঠায় এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতগ্রস্ত হওয়াকে গভর্নর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ড. আতিউর রহমান।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়া পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে ঘটে যাওয়া হ্যাকিংয়ের বিষয়টি পরবর্তী কার্য দিবসেই বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলেজেন্স ইউনিটের প্রধানকে অবহিত করি এবং অর্থ পুনরুদ্ধার, জড়িত পদক্ষেপগুলো সনাক্ত করবার এবং অভ্যন্তরীন সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করার বিষয়গুলোর দিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেই। পরবর্তী সময়ে এনএসআই ও র্যাবকেও অনুরোধ করি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে। আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ টিমের সঙ্গে র্যাব কাজ করছে। তাদের বলেছি, সন্দেহ হলে যে কাউকে তারা হেফাজতে নিতে পারে।
পত্রে বলা হয়েছে, ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছিল যখন দেশে এটিএম হ্যাকিং হয়েছিল। বিষয়টি এতো জটিল ও অজানা যে অনেকটা ভূমিকম্পের মতো মনে হচ্ছিল। এ সাইবার আক্রমণটি জঙ্গি আক্রমনের মতোই মনে হচ্ছিল। তাছাড়া তদন্তাধীন বিষয়টির সম্বন্ধে সম্যক ধারণা পেতে খানিকটা সময়ও লেগেছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বদেশের ভাবমূর্তি, অর্থ ফেরত আনার কৌশলগত নানা চ্যালেঞ্জের কারণে মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে জানাতে খানিকটা বিলম্ব হয়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে বিষয়টি পরিস্কার হবার সঙ্গে সঙ্গে ১ মার্চ আপনাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানাই। পরবর্তীতে মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানিয়ে দিই। সেলফোনে কথা বলি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞও তাকে ব্যাখ্যা করেন। পত্র-পত্রিকায় এ বিষয়ে তার মতামত এসেছে। আমি যা করেছি স্বদেশের স্বার্থে এবং টাকা উদ্ধারের কৌশল হিসেবেই করেছি। বিবেকের তাড়নায় করেছি।
পত্রে আরো বলা হয়, আপনি জেনে খুশি হবেন হারানো অর্থের একটি অংশ ফেরত এসেছে এবং বাকীটাও ফেরত আনা যাবে বলে আমার বিশ্বাস। তা স্বত্ত্বেও যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের অদক্ষতার প্রশ্ন উঠছে এবং প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বব্যাপী উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাই গভর্নর পদে থাকাটা সমীচীন মনে করছি না। আপনার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। প্রায় সাত বছর গভর্নর হিসেবে কাজের সময় আপনার সর্বোচ্চ সহযোগিতা পেয়েছি। বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ বিশ্বের রোল মডেল। আপনার সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, সরকারের যথাযথ অনুমতি নিয়ে আন্ত:সরকারীয় অনুষ্ঠানে দেশের স্বার্থেই বিদেশ গিয়েছিলাম। তাই আপনার অর্জনকে আরো যেন শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো যায় সেই প্রত্যাশায় গভর্নর হিসেবে পদত্যাগ করছি এবং আমার চেয়ে যোগ্যতার কাউকে স্থান করে দিচ্ছি। আমি দেশপ্রেম, বিবেক, বঙ্গবন্ধু ও আপনার প্রতি নিরঙ্কুশ আনুগত্যের আলোকেই এ দায়িত্ব পালন করার চেষ্ঠা করেছি। আমার ব্যবহারে, দায়িত্ব পালনে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আপনার সরকারের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি।

Discussion about this post