শহর ও পল্লী এলাকায় সমান অনুপাতে শাখা খোলার নির্দেশনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। এর পরও গ্রামে ব্যাংক শাখার অনুপাত কমেছে। ২০০১ সাল শেষে শহরে ৪০ ও পল্লীতে ব্যাংক শাখা ছিল ৬০ শতাংশ। ২০১০ সাল শেষে তা দাঁড়ায় যথাক্রমে ৪৩ ও ৫৭ শতাংশে। ২০১১ সালে নির্দেশনা দেয়ার পরও পল্লীতে ব্যাংক শাখার অনুপাত রয়ে যায় ৫৭ শতাংশেই। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য নির্দেশনা জারি হলেও নানা অজুহাতে এখনো পল্লীতে শাখা খোলার বিষয়টি তারা এড়িয়ে চলছে। ২০১২ সাল শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ৬৪ শতাংশ শাখা পল্লীতে থাকলেও বেসরকারি ব্যাংকের ছিল মাত্র ৩৮ শতাংশ। বিদেশী ও নতুন অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলোও একই পথ অনুসরণ করছে বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমেদ চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমানে নতুন নতুন পৌরসভা হওয়ার ফলে অনেক পল্লী শাখা শহর শাখা বলে বিবেচিত হচ্ছে। এ কারণে অনুপাত কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো সমানসংখ্যক অনুপাত বিবেচনা করেই শাখার অনুমোদন দেয়।
২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর ব্যাংকিং সেবা বঞ্চিতদের সেবায় আনার লক্ষ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নীতিমালায় বলা হয়, এখন থেকে শহর ও পল্লীতে ব্যাংক শাখার অনুপাত হবে ১: ১। সিটি করপোরেশন ও সব ধরনের পৌরসভার শাখা শহর শাখা হিসেবে বিবেচিত হবে। শহরতলিতে স্থাপিত শাখা নতুনভাবে সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার আওতাভুক্ত হলে তা শহর শাখা হিসেবে গণ্য হবে। নতুন কোনো পৌরসভা সৃষ্টি হলে তা শহর শাখা হিসেবে গণ্য হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০০১ সালে শহরে শাখা ছিল ৪০ ও পল্লীতে ৬০ শতাংশ। এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের শহরে শাখা ছিল ১ হাজার ৩৩৫ ও পল্লীতে ২ হাজার ২৭১টি। সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংকের শহরে শাখা ছিল ১৪৯ ও পল্লীতে ১ হাজার ৬৭টি। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শহরে শাখা ছিল ৯৮৫ ও পল্লীতে ৩৪২টি। গ্রামে কোনো শাখা না থাকলেও বিদেশী ব্যাংকের শহরে শাখা ছিল ৩৩টি।
২০১০ সাল শেষে সরকারি চার ব্যাংকের শহরে শাখা দাঁড়ায় ১ হাজার ২৪৩ ও পল্লীতে ২ হাজার ১৬১টি। সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংকের শহরে শাখা হয় ১৫৭ ও পল্লীতে ১ হাজার ২২৫টি। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শহরে শাখা দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০৩ ও পল্লীতে ১০০৭টি। গ্রামে কোনো শাখা না থাকলেও বিদেশী ব্যাংকের শহরে শাখার সংখ্যা হয় ৬২টি।
২০১২ সাল শেষে সরকারি চার ব্যাংকের শহরে শাখা দাঁড়ায় ১ হাজার ২৫৩ ও পল্লীতে ২ হাজার ২২৫টি। সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংকের শহরে শাখার সংখ্যা হয় ১৭৫ ও পল্লীতে ১ হাজার ২৬৫টি। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শহরে শাখা দাঁড়ায় ২ হাজার ৬৯ ও পল্লীতে ১ হাজার ২৭০টি। গ্রামে কোনো শাখা না থাকলেও বিদেশী ব্যাংকের শহরে শাখা হয় ৬৫টি।
গত সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি চার ব্যাংকে শহরে শাখা হয় ১ হাজার ২৬৫ ও পল্লীতে ২ হাজার ২৩৮টি। সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংকের শহরে শাখা হয় ১৭৭ ও পল্লীতে ১ হাজার ৩০৮টি। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শহরে শাখা হয় ২ হাজার ১২২ ও পল্লীতে ১ হাজার ৩০৬টি। গ্রামে কোনো শাখা না থাকলেও বিদেশী ব্যাংকের শহরে শাখা হয় ৬৬টি।
নতুন ব্যাংকগুলোকে লাইসেন্স দেয়ার অন্যতম শর্ত ছিল শহর ও পল্লীতে সমানসংখ্যক শাখা খোলা। তবে সেপ্টেম্বর হিসাবে দেখা গেছে, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ছাড়া অন্য কেউ পল্লীতে শাখা খোলেনি। এ সময়ে শহরে ১৬টি শাখা খোলা হলেও পল্লীতে খোলা হয় মাত্র চারটি।
এদিকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয় পর্যালোচনা করতে গিয়ে ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ বলছে, পল্লী এলাকায় ব্যাংকের শাখা ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ ছিল, যা ২০১২ সালের ডিসেম্বরে কমে ৫৭ দশমিক ২০ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ শহর অঞ্চলে ব্যাংকের শাখা ৪২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ৪২ দশমিক ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর বিদেশী ব্যাংকের কোনো শাখা এখন পর্যন্ত গ্রামে স্থাপিত হয়নি।
– See more at: http://www.bonikbarta.com/last-page/2013/12/23/26612#sthash.XbFkahQ8.dpuf
Discussion about this post