ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে আর নিজস্ব এটিএম বুথ স্থাপন করতে হবে না। একজন গ্রাহকের কার্ড থাকলে তিনি যেকোনো ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুলতে পারবেন। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়— ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংক গ্রাহক ব্র্যাকের বিকাশ এজেন্টদের কাছ থেকে টাকা তুলতে এবং জমা দিতে পারবেন। আর ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ অব বাংলাদেশের (এনপিএসবি) মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের এ সেবা পাবেন গ্রাহকরা। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে এনপিএসবি সুইচ স্থাপন করা হয়েছে, যা মূলত ব্যাংকিং খাতের কেন্দ্রীয় সার্ভার হিসেবে কাজ করবে। আগামীকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এনপিএসবি সুইচ উদ্বোধন করবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহসান উল্লাহ বলেন, এনপিএসবি চালু হলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। গ্রাহকরা দ্রুত উন্নতসেবা পাবেন, কমে আসবে হয়রানি। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোরও খরচ কমবে। সব মিলিয়ে ব্যাংকিং খাত আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের (সিবিএসপি) আওতায় এনপিএসবি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলোর অবকাঠামোগত ব্যয় কমবে। নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি খুচরা টাকার চাহিদাও কমবে। প্রাথমিকভাবে পূবালী, সাউথইস্ট ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক গ্রাহকরা এ সেবার আওতায় আসছেন। ২০১৩ সালের জুনের মধ্যে সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে এর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চিঠি দিয়ে এনপিএসের মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক অভ্যন্তরীণ লেনদেন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ফলে এটিএম, পিওএস, কিওস্ক, সেলফোন বা ইন্টারনেটভিত্তিক যেকোনো আর্থিক লেনদেনে এনপিএস ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে। এতে দেশের প্রায় ৩ হাজার এটিএম ও আড়াই হাজার পিওএস সুইচের জন্য একক প্লাটফরম তৈরি হবে। এটি সব আর্থিক লেনদেনের ইলেকট্রনিক সেটেলমেন্টের মাধ্যমে দেশের ই-কমার্সকে আরও নিরাপদ, দ্রুত, দক্ষ ও আস্থাপূর্ণ করতে সাহায্য করবে। যেসব ব্যাংক এখন পর্যন্ত নিজস্ব সুইচ স্থাপন করতে পারেনি, তারা তৃতীয় পক্ষ তথা কিউ-ক্যাশ, ক্যাশ-লিংক ইত্যাদির মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবে। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যেসব ব্যাংক লেনদেন করতে চায়, তাদের স্বল্প সময়ের মধ্যে সুইচ সফটওয়্যার উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
জানা গেছে, এনপিএস সবধরনের লেনদেন সুবিধা নিশ্চিত করবে। সরাসরি সেটেলমেন্ট হিসাবের মাধ্যমে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ও ইলেকট্রনিক ট্রানজেকশন করা যাবে। একই সঙ্গে সবধরনের আন্তর্জাতিক পেমেন্ট স্কিমগুলোও সমর্থন করবে। ভিসা, মাস্টার কার্ড, অ্যামেক্সসহ সবধরনের আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা পাওয়া যাবে মূল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।

Discussion about this post