ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ব্যাংক হিসাব খুলে প্রতিষ্ঠানের নামে দেয়া সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন মাদ্রাসাশিক্ষক মো. ইসহাক মিয়া। অবৈধভাবে সোনালী ব্যাংকের মেঘনা শাখা থেকে এ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ করে দেয়ায় শাখা ব্যবস্থাপককে বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে সোনালী ব্যাংকের কাছ থেকে।
জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার মেঘনা উপজেলার ব্রাহ্মণচর নোয়াগাঁও দাখিল মাদ্রাসার নামে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প ২০১০-১১-এর ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। মাদ্রাসাশিক্ষক মো. ইসহাক মিয়া এ অর্থ আত্মসাতের জন্য মাদ্রাসার জরুরি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভার ভুয়া কাগজ তৈরি করেন। মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি বিদেশে অবস্থান করায় সাধারণ সম্পাদক মো. ইসহাক মিয়ার নামে হিসাব পরিচালনা-সংক্রান্ত সভার একটি কার্যবিবরণী তৈরি করা হয়। এসব বিবরণী জমা দিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় সোনালী ব্যাংকের মেঘনা শাখায় একটি হিসাব খোলেন তিনি। এ হিসাবে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের অর্ধেক অর্থ ৩৫ হাজার ৪৩৭ টাকার চেক জমা হয়, যা ইসহাক মিয়া আত্মসাৎ করেন। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি ধরা পড়ে এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্তেও ঘটনাটি বেরিয়ে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসহাক মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে দেখা যায়, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার জন্য ইসহাক মিয়া স্বাক্ষর জাল করে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহায়তায় অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনায় ওই শাখার তত্কালীন ব্যবস্থাপক জাকির হোসেনকে তাত্ক্ষণিক অন্য শাখায় বদলি করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এছাড়া স্বাক্ষর জাল করে হিসাব খোলার সুযোগ করে দেয়ায় সোনালী ব্যাংককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনও এ বিষয়ে অনুসন্ধান করছে।
ওই শাখার তত্কালীন ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ইসহাক মিয়া ভুয়া কাগজে হিসাব খুলে সরকারি অর্থ তুলে নিয়েছেন। এ ঘটনায় ব্যাংককে ২ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে।
– See more at: http://bonikbarta.com/news/2013/06/19/5217#sthash.RnzBMgqf.dpuf
Discussion about this post