ঝুঁকি এড়াতে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ হারে মূলধন সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অনেক ব্যাংকই তা অনুসরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। নতুন করে তিনটি ব্যাংক ক্যাপিটাল এডেকুয়েসি রেশিও (সিএআর) বা মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাতে ঘাটতির তালিকায় যুক্ত হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো— সোনালী, রূপালী ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল)। ফলে ঘাটতির তালিকায় থাকা ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭।
বাংলাদেশ ব্যাংক যখন ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তার আগে ব্যাসেল-২ নীতিমালা মেনে মূলধন সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে এসব ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চিঠি দিয়ে এসব ব্যাংককে চলতি মাসের মধ্যে ঘাটতি পূরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নওশাদ আলী চৌধুরী বলেন, যারা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ হারে মূলধন সংরক্ষণ করতে পারেনি, তাদের চিঠি দিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে পূরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, ব্যাসেল-২ নীতিমালা অনুসারে ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ অথবা ৪০০ কোটি টাকা, যেটা বেশি হবে সেই হারে মূলধন সংরক্ষণ করার নির্দেশ রয়েছে; ব্যাংকিং ভাষায় যাকে বলা হয় সিএআর। জুনের হিসাবে ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক সিএআর ছিল ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ থেকে প্রমাণ হয়, ব্যাংকগুলো ঝুঁকি নিচ্ছে, কিন্তু সে অনুপাতে মূলধন সংরক্ষণ করছে না।
জানা গেছে, সেপ্টেম্বর ভিত্তিতে নতুন করে সিএআর ঘাটতির তালিকায় আসা ইউসিবিএলের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি, সোনালীর ৩৭৯ কোটি ও রূপালী ব্যাংকের ৭৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া জুন ভিত্তিতে এ তালিকায় ছিল চারটি ব্যাংক। সেপ্টেম্বর ভিত্তিতেও এ ব্যাংকগুলো ঘাটতির তালিকা থেকে বের হতে পারেনি। সেপ্টেম্বর ভিত্তিতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩৯ কোটি, কৃষি ব্যাংকের ৪ হাজার ৫১৮ কোটি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৫১৮ কোটি ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। জুন শেষে ব্যাংক খাতের মোট সিএআর ঘাটতি ছিল ৫ হাজার ৭৮৭ কোটি কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর শেষে তা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, এ হিসাব মূলত জুন ও ডিসেম্বর ভিত্তিতে করা হয়। সেপ্টেম্বর ভিত্তি হিসাবে আমাদের ঘাটতি ছিল, তবে অক্টোবরেই তা ঠিক হয়ে গেছে।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘সেপ্টেম্বর ভিত্তিতে প্রতিবেদনে আমাদের ঘাটতি ছিল। তবে ডিসেম্বর শেষে তা থাকবে না।’
Discussion about this post