
চলমান রাজনৈতিক সংকট সহিংসতায় রূপ নিতে পারে— এমন আশঙ্কায় রাজধানীর পল্টন (পুরানা ও নতুন) ও এর আশপাশ এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক ব্যবসায়িক ভবন এরই মধ্যে খালি হয়ে গেছে। নতুন করেও কেউ অফিস ভাড়া নিচ্ছেন না। এসব এলাকার প্রায় প্রতিটি ভবনেই ঝুলছে টু-লেট।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের সহিংসতায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরানা পল্টন এলাকা। এবারো তারা একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন। এছাড়া এসব এলাকায় বেশকিছু রাজনৈতিক দলের কার্যালয় হওয়ায় নানা কর্মসূচি লেগেই থাকে। এসব বিবেচনা করে অনেকেই আর পল্টন ও আশপাশ এলাকায় ব্যবসায়িক কেন্দ্র রাখতে চাইছেন না।
হক বে অটোমোবাইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হক বলেন, এসব এলাকায় বড় দুটি রাজনৈতিক দলের প্রধান কার্যালয় হওয়ায় প্রায় সময়ই কোনো না কোনো কর্মসূচি থাকে। ব্যবসায়ীরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ কারণে অনেকেই এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। তবে সহিংসতা হবে না, এমন আশ্বাস পেলে হয়তো তারা এসব এলাকায় থেকে যেতেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরানা পল্টন এলাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটের সামনে বায়তুল ভিউ টাওয়ারটি নির্মাণের এক বছর পেরিয়ে গেলেও কয়েকটি এখনো ফাঁকা। বেশ কয়েকটি ফ্লোর খালি পড়ে আছে আজাদ প্রডাক্টের পেছনে এইচএম সিদ্দিক ম্যানসন, নোয়াখালী টাওয়ার, বায়তুল আবেদ, নূরজাহান শরিফ প্লাজা, বায়তুল খায়ের ও পল্টন টাওয়ারে। একই অবস্থা সচিবালয়ের উত্তর পাশে তোপখানা সড়কের বেঙ্গল সেন্টার, মেহরবা প্লাজা, বিজিআইসি টাওয়ার ও ট্রপিকানা টাওয়ারেরও।
পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বায়তুল আবেদ ভবনের ব্যবস্থাপক মো. রাজু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কায় সবাই এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে। আমাদের ভবন নির্মাণ হওয়ার পর কখনই খালি ছিল না। এবারই প্রথম কয়েকটি ফ্লোর খালি আছে।’
সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণির সায়হাম স্কাই ভিউ টাওয়ার, আলীস সেন্টার, এমএন হোটেল টাওয়ার লিমিটেড, আল রাজী কমপ্লেক্স টাওয়ার, স্কাই লার্ক পয়েন্ট, মাহতাব সেন্টার ঘুরে সেখানেও কয়েকটি করে ফ্লোর খালি থাকতে দেখা গেছে। নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশের অনেক ভবনের ফ্লোর দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে রয়েছে। অনেকে আবার অফিস পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
পুরানা পল্টনের নোয়াখালী টাওয়ার ছেড়ে গেছে নিউ ভিশন এবং স্কাইলার্ক টাওয়ার ছেড়ে গেছে ম্যাডোনা গ্রুপ। আর বায়তুল আবেদ ছেড়ে অন্যত্র অফিস নিয়েছে গ্যালাক্সি করপোরেশন ও ডিজিটাল প্রিন্টিং। এমন আরো শতাধিক প্রতিষ্ঠান এসব এলাকা ছেড়েছে গত এক বছরে।
নোয়াখালী টাওয়ারের ম্যানেজার সাহাবুদ্দিন বলেন, অনেকেই ছেড়ে যাচ্ছে। নতুন করে কাউকে পাওয়াও যাচ্ছে না।
পুরানা পল্টন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছে আজাদ প্রডাক্টস। যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জিয়া আজাদ বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির কেন্দ্র হচ্ছে পল্টন। তাদের বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে এ এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ কারণে অনেকেই অন্যত্র ব্যবসা সরিয়ে নিচ্ছেন। তবে এক দশকের বেশি সময় ধরে এখানে ব্যবসা করার কারণে চাইলেও আমাদের পক্ষে ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’
– See more at: http://bonikbarta.com/last-page/2013/10/23/19908#sthash.o8YpaP81.jrCT8Lww.dpuf
Discussion about this post