শ্রমিক নেতা বিএম বাকেরের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় বিএনপিপন্থী কর্মচারীরা ঝিমিয়ে পড়লেও মহাজোট সরকারের শেষ সময়ে তারা আবার সংগঠিত হচ্ছেন। নিজেদের মধ্যে দফায় দফায় সভা করছেন সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের বিএনপিপন্থী কর্মচারীরা। জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পরামর্শে তারা সংগঠিত হচ্ছেন।
বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের সংগঠন সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মুনির বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই ব্যাংকের জাতীয়তাবাদী চেতনার কর্মীদের রাজধানীর বাইরে প্রত্যন্ত এলাকায় বদলি করে। তাদের অনেকেই এখন রাজধানীতে আসতে শুরু করেছেন। তাই বিএনপিপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলো চাঙ্গা হচ্ছে।
জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল বিএনপিপন্থী কর্মীদের। এর নেতৃত্বে ছিলেন শ্রমিক নেতা বিএম বাকের। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আটক অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠন করার পর বিএনপি সমর্থক কর্মচারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। অগ্রণী ব্যাংক সিবিএ নেতা ও জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন আওয়ামীপন্থীরা।
সিবিএ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপিপন্থী যেসব কর্মচারীকে রাজধানীর বাইরে বদলি করা হয়েছিল তাদের এখন ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। সম্প্রতি সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. মুনিরকে রাজধানীতে আনা হয়েছে। জনতা ব্যাংকের জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি মো. ইয়াসীন ও সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকের নেতৃত্বে চলছে শ্রমিক রাজনীতি। অগ্রণী ব্যাংক কল্যাণ সমিতি চলছে মেহেদী-খোকা মিয়ার নেতৃত্বে। রূপালী ব্যাংক কর্মচারী সংঘ চলছে মোক্তার হোসেন ও আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে।
জানা গেছে, বর্তমান সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত অনেকেই এখন বিএনপিপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কেউ কেউ বিএনপিতে যোগদানও করছেন। ভবিষ্যৎ সুবিধা পেতে অনেক কর্মকর্তা আবার নেপথ্যে থেকে নেতৃত্বে দিচ্ছেন।
তবে জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আমিনুল হক ফারুক বলেন, ‘বিএনপিপন্থীরা গোপনে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। বর্তমান সরকার শ্রমিকদের দাবি পূরণের পাশাপাশি চাকরির বয়স বাড়ানোয় সবাই সরকারের পক্ষেই রয়েছেন।’
– See more at: http://bonikbarta.com/last-page/2013/10/26/20267#sthash.Uza40PQW.dpuf
Discussion about this post