প্রথমে উপঢৌকন নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ। এর পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট হারে সুবিধা দিলেই মেলে আমানত। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার আমানত পাওয়ার এ কৌশলের কথা জানান সদ্য অবসরে যাওয়া শীর্ষস্থানীয় এক ব্যাংকার। তার অভিজ্ঞতা হলো— সুবিধা দেয়া ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার আমানত পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
হঠাত্ উত্তোলনের সম্ভাবনা না থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার আমানতকে দীর্ঘমেয়াদি ও ঝুঁকিমুক্ত হিসেবেই দেখে থাকে ব্যাংকগুলো। এ আমানত ঘিরে তাই গড়ে উঠেছে বড় একটি চক্র।
গত নভেম্বরের হিসাবে, ব্যাংকগুলোয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার আমানতের পরিমাণ ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বেশি আমানত জমা রয়েছে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, জেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মতো প্রতিষ্ঠানের। আমানত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে— সোনালী, জনতা, অগ্রণী, বেসিক, রূপালী, বিকেবি, ফারমার্স ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান।
আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ার বলেন, প্রতিটি ব্যাংক নির্দিষ্ট কৌশলে আমানত সংগ্রহ করে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজস্ব নিয়মে তা জমা করে থাকে। যেহেতু ব্যাংকগুলোর ক্যামেলস রেটিং প্রকাশ পায় না, তাই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যোগাযোগই বেশি প্রাধান্য পায়।
সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর আমানত পেতে উচ্চ সুদের প্রতিশ্রুতি দিতেও দেখা গেছে ব্যাংকগুলোকে। তথ্যমতে, রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক এক মাস মেয়াদি আমানতে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ ও তিন মাস মেয়াদি আমানতে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ফরিদ উদ্দিন বলেন, একটা সময় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আমানত নেয়ার জন্য আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল। সে সময় কিছু সুবিধা দিতে হতো অনেককে। প্রতিটি শাখাকে সরকারি আমানতের দিকে নজর দিতে বলা হতো। তবে বর্তমানে বিনিয়োগ পরিস্থিতি না থাকায় আমানতের দিকে সেভাবে নজর নেই। পাশাপাশি আমরা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে বেসরকারি আমানতনির্ভর হয়ে পড়ছি।
ব্যাংকগুলোর নভেম্বরভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের আমানত রয়েছে ৯০৪ কোটি টাকা। এছাড়া জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আমানতের পরিমাণ ৭৫৮ কোটি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ৫১৩ কোটি, জেলা প্রশাসনের ৪৯৯ কোটি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রায় ৫০০ কোটি, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২৩৩ কোটি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ১৫০ কোটি, কৃষি অধিদপ্তরের ১৭০ কোটি ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের ২৫১ কোটি টাকা। এর বাইরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), তিতাস গ্যাস, জীবন বীমা করপোরেশন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেরও (রাজউক) বড় অঙ্কের আমানত জমা রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকে।


Discussion about this post