বৈশ্বিক আর্থিক মন্দা এখনো কাটেনি। বিকল্প শ্রমবাজারও সৃষ্টি করা যায়নি। উপরন্তু সক্রিয় হয়েছে হুন্ডিচক্র। এসবেরই প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্সপ্রবাহে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবাসীদের পাঠানো আয় (রেমিট্যান্স) আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রবাসীরা ৩ হাজার ৫৫৭ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠালেও চলতি অর্থবছরের একই সময়ে পাঠান ৩ হাজার ২৭০ মিলিয়ন ডলার।
রেমিট্যান্স কমার কারণ হিসেবে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নতুন করে কোনো শ্রমবাজার আমরা ধরতে পারিনি। বিশ্বমন্দা ও বিভিন্ন দেশে অস্থিরতার কারণে শ্রমিকরাও খুব ভালো নেই। মালয়েশিয়ায় যত সংখ্যক শ্রমিক যাওয়ার কথা ছিল, তা পাঠানো যায়নি। লন্ডনে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোও রেমিট্যান্স পাঠানো নিয়ে বিপাকে আছে। এসব কারণে প্রবাসী আয়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ২ হাজার ৩৩৬ মিলিয়ন ডলার। ২০১০-১১ অর্থবছরের একই সময়ে তা ১৫ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে হয় ২ হাজার ৭০৮ মিলিয়ন ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রেমিট্যান্স আসে ২ হাজার ৯৭১ মিলিয়ন ডলার। অর্থাত্ প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) বিভিন্ন দেশে শ্রমিক গেছেন ২ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮৬ জন। এ হিসাবে প্রতি মাসে গেছেন গড়ে ৩৪ হাজার ১৭৩ জন। আগের বছরের একই সময়ে গিয়েছিলেন ৪ লাখ ৮১ হাজার ৩২৩ বা প্রতি মাসে গড়ে ৬০ হাজার ১৬৫ জন। অর্থাত্ চলতি বছর জনশক্তি রফতানি কমেছে প্রতি মাসে গড়ে ২৫ হাজার ৯৯২ জন।
এ বিষয়ে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারম্যান ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, অভিবাসন হওয়ার এক বছর পর সাধারণত প্রবাসী আয় পাঠানো শুরু হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রমিক রফতানি কমে গেছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় যত সংখ্যক শ্রমিক পাঠানোর কথা ছিল, তাও সম্ভব হয়নি। এরই প্রভাব পড়ছে রেমিট্যান্সে। সরকার এখনই এ ব্যাপারে উদ্যোগ না নিলে প্রবাসী আয়ে আরো বড় ধরনের ধাক্কা আসবে।
এদিকে যুক্তরাজ্যে বার্কলেস ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের ১১টি ব্যাংকের হিসাব পরিচালনায় জটিলতা দেখা দেয়। এতে এসব ব্যাংকের রেমিট্যান্স সেবা হুমকির মুখে পড়ে। যুক্তরাজ্য থেকে প্রবাসীরা ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশে পাঠিয়েছিলেন ৯৮ কোটি ৭০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরে আসে ৯৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের দিক দিয়ে শীর্ষ ছয় দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্য অন্যতম।
বাংলাদেশে আসা প্রবাসী আয়ের বড় অংশ আসে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘রেমিট্যান্স কমেছে বলা যাবে না, গতি কমে যাচ্ছে। এর কারণ আমরা নতুন বাজার তৈরি করতে পারিনি। উপসাগরীয় অঞ্চলেও আমরা শ্রমিক পাঠাতে পারছি না। সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসা সৌদি আরবেরও একই অবস্থা। এছাড়া ব্যাংকের বাইরে দাম বেশি পাওয়ায় সেদিকেও ঝুঁকছে অনেকে।’
– See more at: http://bonikbarta.com/first-page/2013/10/05/18277#sthash.HV8XGG2s.dpuf

Discussion about this post