
বার্কলেস ব্যাংক হিসাব পরিচালনা বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পরও লন্ডনে ব্যবসা ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের ১১টি ব্যাংক। এজন্য তারা নতুন কৌশল নিচ্ছে। এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর রেমিট্যান্সসেবা কার্যক্রম বন্ধের উপক্রম হওয়ায় সে দেশের অন্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গে নতুন হিসাব খোলার জন্য তারা যোগাযোগ করছে। তবে এতেও তেমন সাড়া মিলছে না।
এদিকে আবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সোনালী ব্যাংক ইউকের মাধ্যমে হিসাব খোলার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা সফল হয়নি। এ অবস্থায় বেশ কয়েকটি ব্যাংক যোগাযোগ করছে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক সাজানের সঙ্গে। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে— এক্সিম, স্ট্যান্ডার্ড, পূবালী, প্রিমিয়ার, এবি, আইএফআইসি, মার্কেন্টাইল, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, সাউথইস্ট, এনসিসি ও ব্যাংক এশিয়া।
এ প্রসঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অনেকেই হিসাব খোলার জন্য আমাদের লন্ডন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে কোনো কিছুই এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’
রেমিট্যান্স পাঠাতে এক্সচেঞ্জ হাউসসেবা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের একটি ব্যাংকের সঙ্গে হিসাব পরিচালনা করতে হয়। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ১৪টি ব্যাংক রেমিট্যান্স পাঠানোর কাজ করে। এর মধ্যে বার্কলেসের সঙ্গে হিসাব পরিচালনা করে ১২টি ব্যাংক। কিন্তু বার্কলেস ১১টি ব্যাংককে তাদের খুচরা হিসাব পরিচালনা না করার চিঠি দেয়ায় বাংলাদেশী এসব ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ হাউসসেবা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। বার্কলেসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যাংকটির সঙ্গে চিঠি পাওয়া বাংলাদেশী এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর হিসাব বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে রেমিট্যান্স পাঠানোর হুমকিতে থাকা ব্যাংকগুলোই ব্র্যাক সাজানে হিসাব পরিচালনা করার জন্যই চেষ্টা চালাচ্ছে। কারণ একই ব্যাংকে ব্র্যাক সাজান হিসাব পরিচালনা করলেও তাদের হিসাব বন্ধ-সংক্রান্ত কোনো চিঠি দেয়নি বার্কলেস।
এদিকে সোনালী ব্যাংক ইউকে ও প্রাইম ব্যাংক যুক্তরাজ্যের ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকে হিসাব পরিচালনা করলেও ন্যাটওয়েস্টের আপত্তির কারণে অন্যদের হিসাব খুলতে পারছে না সোনালী ব্যাংক।
সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্ত এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম দেশী ব্যাংকগুলোর হিসাব পরিচালনা জন্য। তবে আমাদের হিসাব পরিচালনাকারী ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংক এতে আপত্তি জানিয়েছে। বিষয়টি জটিল হয়ে গেছে। এখন এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সরকারি পর্যায় থেকে উদ্যোগ নিতে হবে।’
বার্কলেস থেকে দীর্ঘদিন ধরে এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোকে অথরাইজড পেমেন্ট ইনস্টিটিউশন (এপিআই) লাইসেন্স নেয়ার জন্য বলা হচ্ছিল, যা যুক্তরাজ্যের ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অথরিটি থেকে দেয়া হয়। এছাড়া অর্থ স্থানান্তর ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সব গ্রাহকের নো ইওর কাস্টমার (এনওয়াইসি) তথ্যও জানতে বলা হয়। একই সঙ্গে এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোকে শর্ত দেয়া হয় বার্ষিক টার্নওভার ২০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার।
এসব শর্তের কোনোটিই পূরণ করতে পারেনি চিঠি পাওয়া বাংলাদেশের ১১টি ব্যাংক। তবে ব্র্যাক সাজান এপিআই লাইসেন্স পাওয়ায় তাদের হিসাব বন্ধ-সংক্রান্ত কোনো চিঠি দেয়নি বার্কলেস। অন্য ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে বলা হয়, আগামী ১০ জুলাইয়ের পর তাদের আর কোনো হিসাব পরিচালনা করা হবে না।
এ অবস্থায় ১১টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা লন্ডনে গিয়ে বার্কলেস ব্যাংকের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করেও ব্যর্থ হন। পরে তারা হাবিব, ন্যাটওয়েস্টসহ কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন হিসাব খোলার জন্য। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকও এ নিয়ে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি পন্থা নির্ধারণের পরামর্শ দেয়। সোনালী ব্যাংক ইউকের মাধ্যমে হিসাব খোলা যায় কিনা, তা বিবেচনার পরামর্শ দেয়া হয়। তবে সোনালী ব্যাংক ইউকের হিসাব পরিচালনাকারী ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংক এতে রাজি হয়নি। এ অবস্থায় ব্র্যাক সাজান হয়ে উঠেছে একমাত্র ভরসা। এরই মধ্যে কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্র্যাক সাজানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে হিসাব খোলার জন্য।
এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমরা হিসাব খোলার জন্য এরই মধ্যে দুটি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি, শিগগিরই ফল পাওয়া যাবে। সমস্যার সমাধান না হলে ব্র্যাক সাজানে হিসাব পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে।’
আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ার একই তথ্য জানিয়ে বলেন, শেষ মুহূর্তে কেউ হিসাব খুলতে রাজি না হলে সোনালী ব্যাংক ইউকে ও ব্র্যাক সাজানকেই বেছে নিতে হবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা ২০১১-১২ অর্থবছরে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ৯৮ কোটি ৭০ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছরের মে পর্যন্ত পাঠিয়েছেন ৯১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের দিক দিয়ে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্য একটি।
– See more at: http://bonikbarta.com/first-page/2013/06/24/5869#sthash.eAmUHnrr.dpuf
Discussion about this post