‘আমি অন্য কোনো ব্যাংক কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নই’— এমন ঘোষণা দিয়ে চাকরিতে যোগদান করলেও পরে অন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বনে যাচ্ছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) কেউ কেউ। গত ৮ নভেম্বর ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি পদে যোগ দেন সেলিম আরএফ হোসেইন। যোগ দিয়েই তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রমোশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির (আইপিডিসি) পরিচালক হন। এতে লঙ্ঘন হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার তাকে চিঠি দিয়ে আইপিডিসি থেকে পদত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
একইভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হয়েছেন জনতা, সোনালী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, দ্য সিটি, ব্যাংক এশিয়াসহ আরো কয়েকটি ব্যাংকের এমডি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘ব্যাংক-কোম্পানি আইন ও আমাদের নীতিমালায় যা বলা আছে, ব্যাংকগুলোকে তা মানতে হবে। এটা যারা মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
জানা যায়, সম্প্রতি আইপিডিসির ৫ কোটি ৫ লাখ ১৯০টি শেয়ার বিক্রি করে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান আগা খান ফান্ড ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (একেএফইডি)। এর মধ্যে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ৩ কোটি ১৫ লাখ ৬২ হাজার ৬১৮টি শেয়ার কিনে নিয়েছে। আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশন কিনেছে ১ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৮টি ও স্থানীয় আরএসএ ক্যাপিটাল লিমিটেড কিনেছে ৬৩ লাখ ১২ হাজার ৫২৪ শেয়ার। পরে আইপিডিসি পরিচালনা পর্ষদের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ডা. মুহাম্মদ মুসা। তিনি বর্তমানে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কর্মরত। এদিকে গত ৮ নভেম্বর ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি পদে যোগ দেয়ার পরই ব্র্যাক (বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা) সেলিম আরএফ হোসেইনকে আইপিডিসির পরিচালক পদের জন্য মনোনয়ন দেয়। এর পর গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি দিয়ে আইপিডিসি থেকে তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়।
জানতে চাইলে সেলিম আরএফ হোসেইন বলেন, এ রকম কোনো নিয়মের কথা আমরা জানি না। যদি বাংলাদেশ ব্যাংক এতে কোনো ধরনের আপত্তি তোলে, তাহলে নিশ্চয়ই সরে আসব। আমি তো সেখানে মনোনীত পরিচালক।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালের ২৭ অক্টোবর বিশেষায়িত ব্যাংক ছাড়া সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের নিযুক্তি ও দায়দায়িত্ব-সম্পর্কিত বিধিবিধান নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর ঘোষণাপত্রে বলা আছে, ‘আমি অন্য কোনো ব্যাংক-কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নই।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সেলিম আরএফ হোসেইন ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি। অথচ তাকে আইপিডিসির পরিচালক মনোনয়ন দিয়েছে এনজিও ব্র্যাক। এ কারণে তাকে দ্রুতই পদত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইভাবে আরো যারা এমডি হয়েও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হয়েছেন, তাদেরও দ্রুত সরিয়ে দেয়া হবে। মনোনীত পরিচালক হয়েও কোনোভাবে থাকার সুযোগ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনতা ব্যাংকের এমডি আব্দুস সালাম বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ও আইআইডিএফসি এবং সোনালী ব্যাংকের এমডি প্রদীপ কুমার দত্তও আইআইডিএফসির পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। একইভাবে আইআইডিএফসির পরিচালক পদে রয়েছেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি আনিস এ খান, দ্য সিটির এমডি সোহেল আরকে হুসেইন ও ব্যাংক এশিয়ার এমডি মেহমুদ হোসেন।
Discussion about this post