আইএফআইসি ব্যাংকের জন্য গত বছরটা কেমন ছিল?
আমরা যেভাবে চেয়েছি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেভাবেই কার্যক্রম চালাতে সক্ষম হয়েছি। বড় কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই সামনে যেতে পারছি। ২০১৩ সালকে আমাদের জন্য সাফল্যের বছর বলা যেতে পারে।
আইএফআইসির সার্বিক সূচকগুলোর অবস্থা কী দাঁড়িয়েছে?
গত বছর মুনাফায় রেকর্ড গড়েছি আমরা। প্রথমবারের মতো ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত সংগ্রহ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। ব্যাংকের প্রায় সব সূচকই ইতিবাচক ধারায় রয়েছে; আমাদের জন্য যা বড় ধরনের অর্জন বলে আমি মনে করি।
২০১৪ সালে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
ব্যাংকটি নিয়ে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দুই ধরনের পরিকল্পনা আছে আমাদের। ২০১৩ সালে যেসব ভালো কাজ হয়েছে, চলতি বছরও সেগুলো এগিয়ে নেয়া হবে। ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের যেসব ঝুঁকি আছে, তা কোনোভাবেই আমরা নিতে চাই না। মুনাফার প্রয়োজনে কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হলেও মূলধন হারাতে চাই না। আমাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটটিকে আরো শক্তিশালী করা হয়েছে। চলতি বছর এর সুফলও পাওয়া যাবে।
ব্যবসা বাড়াতে আমরা দুই ধরনের কাজ করছি। প্রথমত. ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরো দক্ষ করার কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগতভাবে ব্যাংকটিকে আরো আধুনিক করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় সর্বশেষ যে প্রযুক্তি দিয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থা পরিচালিত হয়, আমরাও সেদিকে যেতে চাই।
কার্ডসেবা বাড়ানোর পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং চালুর পরিকল্পনা আছে আমাদের। সেই সঙ্গে কম সুদে আমানত নিয়ে এসএমই ঋণের দিকেই বেশি মনোযোগ থাকবে। শাখাগুলোকে কীভাবে আরো ঝুঁকিমুক্ত করা যায়, সে প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এসব কার্যক্রম আমাদের দীর্ঘমেয়াদি ফল দেবে বলে আমি মনে করি।
বর্তমান বাজারে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সম্ভাবনা কতটুকু?
মোবাইল ব্যাংকিং যদি ব্যাংকের নেতৃত্বে হয় ও কম খরচে সেবাটি দেয়া যায়, তাহলে এর সম্ভাবনা অফুরন্ত। কিন্তু এজন্য গ্রাহকদের আস্থায় নিতে হবে। আমরা এজন্য বর্তমানের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা নিয়ে আসব। আমরা এ সেবায় আয়-ব্যয় সমান রাখার চেষ্টা করব। এ থেকে আমাদের মুনাফা করার কোনো পরিকল্পনা নেই। সেবাটি চালু করতে প্রযুক্তিগত সব ধরনের কার্যক্রম আমরা সম্পন্ন করেছি। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা।
চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্য ব্যবসা ও জাহাজ ভাঙা শিল্প আইএফআইসি ব্যাংকে কী প্রভাব ফেলেছে?
আমরা প্রথম থেকেই এসব ব্যাপারে সচেতন ছিলাম। ভোগ্যপণ্যে অর্থায়নে বিপর্যয় শুরু হয়েছে ২০০৮ সালে। এ সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য কমে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়ে যান। পাশাপাশি কোনো কোনো ব্যাংক এসব খাতে বেশি অর্থায়ন করায় অনেকে তা অন্য খাতে স্থানান্তর করেছেন। এ কারণে সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটির মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। তবে আমরা নিজেরা এসব বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করায় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি।
নেপাল-বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা কী?
আইএফআইসি ব্যাংক যখন নেপাল-বাংলাদেশ ব্যাংকের শেয়ার কেনে, তখন এ শেয়ারের মূল্য ছিল ২৫০ রুপির ঘরে। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ রুপির উপরে। যারা ব্যাংকটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের অনেক ঋণ ছিল। নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে শেয়ার বিক্রি করে ব্যাংকটির ঋণ শোধ করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকটি দিন দিন ভালো করছে। ২০১৩ সালে ভালো ডিভিডেন্ড পেয়েছি, চলতি বছর তা আরো বাড়বে বলে আশা করছি।
চলতি বছর আইএফআইসি ব্যাংকের সামনে চ্যালেঞ্জ কী?
অন্যসব ব্যাংকের যে চ্যালেঞ্জ, আইএফআইসিরও তাই। এর মধ্যে প্রধান হলো গ্রাহকদের মান উন্নয়ন করা। মানে কোনোভাবেই যেন অবনতি না ঘটে, সেজন্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এছাড়া মন্দ ঋণ যাতে না বাড়ে, সেদিকে লক্ষ রাখা হচ্ছে। এছাড়া কম সুদে আমানত সংগ্রহও বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত যেসব উন্নয়ন করা হয়েছে, সেগুলোর যথাযথ ব্যবহারও এ চ্যালেঞ্জের অংশ।
দীর্ঘ অস্থিতিশীল পরিস্থির পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু নিয়ম শিথিল করেছে। এ সুযোগ ব্যবহার করে কোনো কোনো ব্যাংক পুরনো ক্ষত ঢাকার চেষ্টা করেছে। এর প্রভাব কেমন হবে?
সব ব্যাংকই ভালো আবার সবাই খারাপ, এমনটা বলা যাবে না। ছয়-আট মাস খুবই অরাজক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এ কারণে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান কিছু নিয়ম শিথিল করেছে। এটা না করলে অনেক ভালো প্রতিষ্ঠানও খারাপ হয়ে যেতে পারে। তবে এর ব্যবহার কারা কীভাবে করেছে, সে ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান সজাগ আছে বলেই আমার বিশ্বাস। বর্তমান সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ উদ্যোগ আধুনিক ও যুগোপযোগী। তবে এ সুযোগে কোনো ব্যাংক পুরনো ক্ষত ঢাকার চেষ্টা যদি করেও থাকে, তাতে দীর্ঘমেয়াদি সুফল আসবে না। সাময়িক উত্তরণের পথ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অসম্পূর্ণতাকে আড়াল করা যাবে না।

Discussion about this post