
নগদ এখন ডাক অধিদপ্তরের ব্র্যান্ড ব্যবহার করছে। এতে ডাক অধিদপ্তরের কোনো মালিকানা নেই।
সিরাজ উদ্দিন, মহাপরিচালক, ডাক অধিদপ্তর
এ নিয়ে জানতে চাইলে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) সিরাজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, নগদ এখন ডাক অধিদপ্তরের ব্র্যান্ড ব্যবহার করছে। এতে ডাক অধিদপ্তরের কোনো মালিকানা নেই। তাই ৫১ শতাংশ মালিকানা নিতে ডাক অধিদপ্তরের অধীনে একটি কোম্পানি গঠন করা হচ্ছে। এরপর ৯ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হবে। পর্ষদে চেয়ারম্যানসহ পাঁচজন পরিচালক হবেন সরকারের প্রতিনিধি।
সিরাজ উদ্দিন আরও বলেন, ‘মালিকানা নিতে আমরা কোনো টাকা দেব না। নগদ শুরু থেকে আমাদের ব্র্যান্ড ব্যবহার করছে। এর মূল্যমান হিসেবে নগদের ৫১ শতাংশ মালিকানা পাবে ডাক অধিদপ্তর। এ জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। আশা করছি চলতি বছরের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে অন্যান্য এমএফএস প্রতিষ্ঠানের মতো চলবে নগদ।’
নগদের কার্যক্রম শুরুর আগেই অংশীদারদের কেউ কেউ থার্ড ওয়েভের শেয়ার ছেড়ে দেন। এর মধ্যে কাজী মনিরুল কবির ছেড়ে দিলে মালিকানায় যুক্ত হন দুই সাংসদ নাহিম রাজ্জাক ও রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। এ ছাড়া নতুন করে মালিকানায় যুক্ত হন রেজওয়ানা নূর।
যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, থার্ড ওয়েভ টেকনোলজির নাম পরিবর্তন করে নগদ করা হয়েছে। আর মালিকানায় যুক্ত হয়েছেন নতুন অনেকে, ছেড়েও দিয়েছেন কেউ কেউ। আড়াই বছরে দফায় দফায় একাধিকবার মালিকানায় পরিবর্তন হয়েছে নগদের। এখন নগদের পরিচালক ৯ জন, যাঁরা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে নিবন্ধিত বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, কানাডা ও সিঙ্গাপুরের ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন। অন্য ৬ জন বাংলাদেশি।
নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর আহমেদ নিজের নামে থাকা সব শেয়ার টেলিকম এশিয়া হোল্ডিং ও অন্য পরিচালক শাফায়েত আলমের কাছে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে হস্তান্তর করেছেন। ১ জুলাই থেকে তিনি টেলিকম এশিয়া হোল্ডিংয়ের মনোনীত পরিচালক হিসেবে এমডি পদে আছেন। প্রাইম ব্যাংকের সাবেক এমডি রাহেল আহমেদ ১ জুলাই থেকে ফিনক্লুশন ভেঞ্চারের প্রতিনিধি হিসেবে নগদের পরিচালক। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও (সিইও)।
রেজাউল হোসেন ১ জুলাই থেকে নগদের পরিচালক হয়েছেন ফিনটেক হোল্ডিংয়ের প্রতিনিধি হিসেবে। ব্লু ওয়াটার হোল্ডিংয়ের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচালক হয়েছেন সাফায়েত আলম। তিনি নগদের নির্বাহী পরিচালকও। মারুফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আমিনুল হক নগদের পরিচালক হিসেবে আছেন টেলিকম এশিয়া হোল্ডিংয়ের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে। সিঙ্গাপুরের কোম্পানি নিবন্ধনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফিনক্লুশন ভেঞ্চার ও টেলিকম এশিয়া একই গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান।
এর বাইরে নগদে ফিনক্লুশন ভেঞ্চারের পক্ষে সিঙ্গাপুরের নাগরিক ফয়সাল আহসান চৌধুরী ও স্টালওয়ার্টে লিমিটেডের পক্ষে কানাডার নাগরিক তামজিদ রহমান পরিচালক। আর মিয়ার্স হোল্ডিংয়ের পক্ষে পরিচালক হন ব্রিটিশ নাগরিক গিলস এলাস্টার জেমস ফার্লে, যাঁর কার্যালয় ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে।
নগদের এমডি তানভীর আহমেদ গত রোববার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাঁরা এখন নগদের মালিকানায় আছেন, তাঁদের মধ্যে আমিসহ বেশির ভাগই দেশীয় কোম্পানির। এর মধ্যে নগদে কর্মীদেরও শেয়ার আছে। একটি কোম্পানি আগে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত ছিল। এখন সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই। পাশাপাশি নগদে তিনটি বিদেশি কোম্পানির তিনজন প্রতিনিধিও আছেন। নতুন করে লকডাউন না হলে চলতি বছরেই নগদ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপ নেবে।’
মোবাইলে আর্থিক সেবায় (এমএফএস) বিকাশের পরই এখন নগদের অবস্থান। সেবাটির মাধ্যমে দৈনিক ৭০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। সহজে হিসাব খোলার সুবিধা ও ব্যবসার কৌশলের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সেবাটি। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি গ্রাহক নিবন্ধন নিয়েছেন নগদের।
Discussion about this post