স্টিল স্ট্রাকচার বিল্ডিং তৈরি:: কাঁচামালে শুল্ক কমানোর সুপারিশ শিল্পমন্ত্রীর
দুর্ঘটনা প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হতে পারে ইস্পাত নির্মিত ভবন (স্টিল বিল্ডিং)। নিরাপদ, অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী এবং পুনরায় বিক্রির সুবিধা থাকায় এ ধরনের ভবন জনপ্রিয় হচ্ছে। কিন্তু এ শিল্পের কাঁচামালে অতিরিক্ত শুল্কারোপের কারণে এর প্রসার হচ্ছে না।
সম্প্রতি স্টিল বিল্ডিং তৈরির কাঁচামালের শুল্ক কমানোর সুপারিশ করেছেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের কাছে পাঠানো এক পত্রে (ডিও লেটার) তিনি এ সুপারিশ করেন।
পত্রে বলা হয়েছে, এইচএসকোড ৭২১০.৪৯.২০, ৭২১০.৬১.২০, ৭২১০.৬৯.২০ প্রি ফ্যাব্রিকেটেড স্টিল বিল্ডিং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের শুল্কায়নে সিটের পুরুত্ব সর্বনিম্ন দশমিক ৬ মিলিমিটার বেঁধে দেয়া এ শিল্পে জন্য একটি বড় আঘাত। বাস্তবে এ শিল্পের জন্য আমদানি করা সিটের পুরুত্ব দশমিক ৪ মিলিমিটার থেকে শুরু হয়। এ শিল্পের জন্য দশমিক ৬ মিমির নিচে আমদানি করা শিটের শুল্কায়ন মোটেই বাস্তবসম্মত নয়, যার কাস্টমস শুল্ক ২৫ ও রেজিস্ট্রেশন শুল্ক ৫ শতাংশ।
প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড স্টিল বিল্ডিং মূলত শিল্প-কারখানার অবকাঠামো ও ওয়্যারহাউস তৈরিতে ব্যবহূত হয়। অধিক হারে শুল্কায়নের কারণে শিল্প-কারখানার উদ্যোক্তারা নিরুত্সাহিত হবেন এবং শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এতে ৭০টি শিল্পে কর্মরত প্রায় ২ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন শিল্পমন্ত্রী।
এ শিল্পের জন্য আমদানি করা শিটের সর্বনিম্ন পুরুত্ব দশমিক ৬ মিমি রহিত করে ১২ শতাংশ শুল্কায়নে সর্বনিম্ন দশমিক ৪ মিমি পুরুত্ব এইচএসকোড ৭২১০.৪৯, ৭২১০.৬১, ৭২১০.৬৯ এবং ৭২১০.৭০-এর আওতায় আমদানির সুযোগ দেয়ার সুপারিশ করেন মন্ত্রী। এছাড়া একই সঙ্গে আমদানি করা সম্পূর্ণ বিল্ডিংয়ের (এইচএসকোড-৯৪০৬.০০.৯০) আমদানি শুল্ক বর্ধিত করে ২৫ শতাংশ ও সম্পূরক শুল্ক ৩৫ শতাংশ আরোপ করার সুপারিশ করেন শিল্পমন্ত্রী।
জানা গেছে, বাংলাদেশে বছরে ২ হাজার কোটি টাকার স্টিল বিল্ডিংয়ের চাহিদা রয়েছে। এর ৯০ শতাংশই দেশে তৈরি হচ্ছে। বাকিটা আমদানি করতে হচ্ছে। কিন্তু ৯০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানিতেই শুল্ক বেশি আর ১০ শতাংশ সম্পূর্ণ বিল্ডিংয়ের আমদানি শুল্ক কম। এ কারণে অনেকেই সম্পূর্ণ তৈরি বিল্ডিং আমদানির দিকে ঝুঁকছেন।
স্টিল বিল্ডিং ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘দুর্ঘটনা প্রতিরোধের অন্যতম উপায় স্টিল বিল্ডিং নির্মাণ। এ কারণে শিল্পটিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে দেখা প্রয়োজন। সরকার শুল্ক কমিয়ে দিলে আমরা আরো কম খরচে উদ্যোক্তাদের এ বিল্ডিং নির্মাণ করে দিতে পারব। এতে নতুন নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।
Discussion about this post