জালিয়াতি রোধে সনাতন পদ্ধতিতে ঋণপত্র খোলা বন্ধ করে দিয়েছে ব্যাংকগুলো। এর পরিবর্তে চালু হয়েছে সুইফট কোড। প্রায় সব ব্যাংকই এখন এ পদ্ধতিতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ঋণপত্র খুলছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর ব্যাংকগুলো এ উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহসান উল্লাহ বলেন, ‘কাগজে ঋণপত্র খোলায় জালিয়াতির ঝুঁকি থাকে। এটা বন্ধে ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন সময় আমরা সুইফট কোডের মাধ্যমে ঋণপত্রসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছি। বর্তমানে প্রায় সব ব্যাংকই এর মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে।’
সুইফট কোড হলো এমন একটি স্বতন্ত্র কোড, যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো ব্যাংক একে অন্যকে চিহ্নিত করতে পারে। এ কোড সাধারণত ৮ থেকে ১১ ডিজিটের হয়। ব্যাংকের প্রধান শাখার ক্ষেত্রে হয় আট ডিজিট। অন্যান্য শাখার ক্ষেত্রে হবে ১১ ডিজিট। প্রথম চার ডিজিট হলো ব্যাংকের নাম এবং পরের চার ডিজিট বাংলাদেশের সংক্ষিপ্ত রূপ ইউউঐ। নির্দিষ্ট শাখার নাম থাকবে
তিনটি ডিজিটে।
জানা যায়, হলমার্ক গ্রুপ সোনালীসহ ২৬টি ব্যাংক থেকে অর্থ বের করে নিয়েছে মূলত স্বাক্ষর জাল করে ও ভুয়া ঋণপত্র সৃষ্টির মাধ্যমে। সুইফট কোডে এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরই ব্যাংকগুলো এ ব্যাপারে সচেতন হয়।
ইস্টার্ন, ন্যাশনাল, আইএফআইসি, উত্তরা, শাহজালাল ব্যাংক পুরোপুরি সুইফট কোডের মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্য শুরু করেছে বলে জানা গেছে। সোনালী ও জনতা ব্যাংক সুইফট এবং কাগুজে দুই পদ্ধতিতেই ব্যবসা করছে।

Discussion about this post