আইডিসি লিমিটেডকে দেয়া পিডিবির চেকের টাকা একটি নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ক্রেডিট লিমিটেডের (বর্তমানে এনসিসি ব্যাংক) হাতে তুলে দিয়েছিল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। ২৭ বছর আগের এ ৩২ লাখ টাকা আজও আইডিসিকে বুঝিয়ে দেয়নি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। অর্জিত সুদসহ এ টাকা বুঝিয়ে দিতে সর্বোচ্চ আদালত ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ রয়েছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত ও হাইকোর্টে দায়েরকৃত আইডিসির রিট মামলার দলিলপত্রে দেখা যায়, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ভবন নির্মাণকাজের বিল প্রাপ্য ছিল ইন্টারন্যাশনাল ডিজাইনার অ্যান্ড কন্সট্রাক্টর (আইডিসি) লিমিটেড। এ বিল বাবদ ১৯৮৬ সালে অক্টোবর থেকে ’৮৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইডিসির অনুকূলে মোট ৩২ লাখ ৭ হাজার ১২৫ টাকার ছয়টি অ্যাকাউন্ট পেয়ি চেক ইস্যু করে পিডিবি। চেকগুলো অগ্রণী ব্যাংকের চট্টগ্রামের চট্টেশ্বরী রোড শাখায় পিডিবির হিসাবের ওপর ড্র করা ছিল।
কিন্তু অগ্রণী ব্যাংক থেকে এ চেকগুলোর বিপরীতে অর্থ সংগ্রহ করে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (তত্কালীন আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক) তা আইডিসির হিসাবে জমা না করে এনসিসি ব্যাংকের (তত্কালীন ন্যাশনাল ক্রেডিট লিমিটেড) হাতে তুলে দিয়েছিল। ২৭ বছর ধরে অনেক চেষ্টা-তদবিরেও অর্থ ফেরত পায়নি আইডিসি।
পরে আইডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ মজিদ এ পর্যন্ত অর্জিত সুদসহ এই অর্থ ফেরত পেতে ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ চেয়ে আবেদন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নেয়ায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করে আইডিসি। বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড়াও এনসিসি ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংককে এ টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দিতে রিট আবেদন করেন এমএ মজিদ। শুনানি শেষে গত ১১ মার্চ আদালত সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন আদেশের কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ১১ এপ্রিল আদালতের রায় অনুসারে ব্যবস্থা নিতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংককে নির্দেশ দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প পরিচালক এমএ মজিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বণিক বার্তাকে বলেন, আদালতের রায় অনুসারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিলেও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সাড়া নেই। এদিকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে হেড অব পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিটুপি দাস চৌধুরী বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশনা হাতে পেলেই তা পালন করব।
– See more at: http://bonikbarta.com/news/2013/06/19/5213#sthash.VR3Blbn6.dpuf
Discussion about this post