
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফিরে সাকিব তনু | তারিখ: ১৫-১০-২০১৩
সরকারি কোষাগারে ৫০০ টাকা জমা দিয়ে ভারত থেকে আনা গরু বৈধ করা হয়। তবে সীমান্ত এলাকায় দেশী গরু কিনে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। দেশী বা সীমান্তের ওপার থেকে আসা সবই ভারতীয় গরু বলে সন্দেহ করছেন স্থানীয় পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। হয়রানি এড়াতে তাই ৫০০ টাকা দিয়ে কাস্টমস থেকে রসিদ নিচ্ছেন ক্রেতারা।
সরকারি কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন আহমেদ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গত সপ্তাহে কোরবানির জন্য গরু কিনতে আসেন। দেশী গরু কিনেও তিনি কাস্টমস থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে একটি রসিদ নেন। তিনি জানান, গরু পরিবহনকারী ট্রাকচালকের জোরাজুরিতেই তিনি কাস্টমস থেকে গরুর বৈধতা নেন। সরকারের রাজস্ব বিভাগে ৫০০ টাকা জমা দিয়ে ভারতীয় গরুর বৈধতা নেয়ার বিধান থাকলেও সীমান্ত এলাকা থেকে কেনা প্রায় সব গরুরই এভাবে বৈধতা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের ৩১টি করিডোর দিয়ে কাস্টমস চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে গরুর বৈধতা থেকে যে ৯৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ীদের দাবি আদায়কৃত রাজস্বের কিছু অংশ এসেছে দেশী গরু থেকে। বিষয়টি স্বীকার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কাস্টমসের কর্মকর্তা তৈমুর রহমান বলেন, বর্তমানে ভারতীয় গরু আসছে অনেক কম। দেশী গরুই বেশি যাচ্ছে কোরবানির বাজারে। বেশির ভাগ দেশী গরুই এখন ৫০০ টাকায় বৈধতা নিচ্ছে, যদিও তা শুধু ভারতীয় গরুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
কাস্টমস আইন, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, আমদানি-রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে ভারতীয় গরুপ্রতি ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে বৈধ হয়। এছাড়া কাগজে-কলমে ওই ৫০০ টাকায় বিক্রিও হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে চলতি বছরে যেকোনো সময়ের তুলনায় ভারত থেকে গরু আসছে কম। স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ হয়েছে অনেক বেশি। স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই এখন কোরবানির জন্য গরু পালন করে। আবার অনেকে ঈদের চার-পাঁচ মাস আগে ভারত থেকে গরু এনে মোটাতাজা করছে। এসব গরু কেন ৫০০ টাকায় বৈধ করা হয় তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়কে নানা রকম ঝামেলা হয়। পুলিশ অনেক সময় চুরি করা গরু বলে হয়রানি করে। এ বৈধতাপত্র থাকলে এসব ঝামেলা থেকে এড়ানো যায়। এছাড়া যারা গরু কেনেন, তারাও বৈধতাপত্র দেখতে চান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মামুন বলেন, যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে ভারত থেকে গরু আসছে কম। তবে স্থানীয়রা কোরবানির জন্য গরু পালন করায় কোনো সংকট নেই।
বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল ইসলামের কথায়ও এর সত্যতা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, যেকোনো সময়ের তুলনায় ভারতীয় গরু আসছে কম। ভারতীয় গরু নামে যা বিক্রি হচ্ছে আসলে তা নয়। দেশী গরুরই প্রাধান্য রয়েছে বাজারে।
– See more at: http://www.bonikbarta.com/first-page/2013/10/15/19311#sthash.KpEBozlC.dpuf
Discussion about this post