
খোলাবাজার (কার্ব মার্কেট) থেকে ডলার সংগ্রহ হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে এ বাজারে ডলারসংকট দেখা দিয়েছে। ঈদে লম্বা ছুটি থাকায় অনেকে দেশের বাইরে গেছেন। এ কারণেও খোলাবাজারে ডলারের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। আর এ সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সুবিধাভোগী আমলা, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীরা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। অনেকে আবার চলে যাওয়ারও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। যাওয়ার সময় তারা সঙ্গে নিচ্ছেন বড় অঙ্কের ডলার। বৈধভাবে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ডলার সংগ্রহের সুযোগ না থাকায় খোলাবাজারের ওপরই নির্ভর করছেন তারা।
দেশের বাইরে বড় অঙ্কের ভ্রমণ ও চিকিত্সা ব্যয়সহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে মূলত খোলাবাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করা হয়। কারণ ব্যাংকিং চ্যানেলে ভ্রমণ ব্যয়ে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ও চিকিত্সা ব্যয়ের জন্য ১০ হাজার ডলার সংগ্রহ করা যায়। আর প্রমোদ ব্যয়ে অর্থ দেশের বাইরে নেয়ার কোনো বিধান নেই। এ ব্যয়ের সব অর্থই সংগ্রহ করা হয় খোলাবাজার থেকে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেকেই দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন বা যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। তাদের সবাই খোলাবাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছেন। এছাড়া ছিল হজ। ছুটিতে অনেকেই দেশের বাইরে গেছেন। এসব কারণে খোলাবাজারে ডলারসংকট দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশে ডলারের দুই ধরনের বাজার রয়েছে। একটি ব্যাংকিং চ্যানেল, অন্যটি খোলাবাজার। পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র দিয়ে ব্যাংক, মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে ডলার সংগ্রহ করাটাই ব্যাংকিং চ্যানেল। এ চ্যানেলে বছরে একবার সার্কভুক্ত দেশের বাইরে ভ্রমণে একজন ৫ হাজার ডলার সঙ্গে নিতে পারেন। সার্কভুক্ত দেশ ভ্রমণে সঙ্গে নেয়া যায় ২ হাজার ডলার। চিকিত্সা ব্যয় বাবদ সঙ্গে নেয়া যায় ১০ হাজার ডলার। তবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের অনুমতি নিয়ে চাহিদা অনুযায়ী ডলার নেয়া যায়। শিক্ষা ব্যয়েও চাহিদা অনুযায়ী ডলার নেয়ার অনুমতি দিতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কিন্তু মানি চেঞ্জারগুলো নিয়ম ভেঙে খোলাবাজারের ব্যবসা করে। তারা ডলার কিনে ডলার বিক্রি করে, যা দিন শেষে ব্যাংক হিসাবে প্রদর্শন করে না। রাজধানীর কাফেলা মানি চেঞ্জারের বিক্রয়কর্মী জাহিদ বলেন, বর্তমানে ডলারসংকট চলছে, এ কারণে দামটাও একটু বেশি।
খোলাবাজারে ডলার সরবরাহ আসে মূলত বিদেশ ফেরতদের কাছ থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে এ হার কমে এসেছে। খোলাবাজারের বিদেশী মুদ্রা বিক্রেতা মো. রিপন বলেন, চাপ বেড়ে গেছে, এ কারণে সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের মূল্য ছিল ৭৭ টাকা ৭৫ পয়সা। অথচ খোলাবাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয় ৮০ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৮১ টাকায়। ঈদের আগেও খোলাবাজারে ডলারের মূল্য ছিল ৮০ টাকার নিচে।
– See more at: http://www.bonikbarta.com/first-page/2013/10/27/20353#sthash.l8xwMcSC.yfAupw6n.dpuf
Discussion about this post