বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়ে অতি মুনাফা করছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। মুদ্রাবিশেষে মুনাফার পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১ থেকে ৪ টাকা। বিশেষজ্ঞরা একে অনৈতিক বলে মনে করছেন। অযৌক্তিক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংকও।
বিভিন্ন ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবধান (স্প্রেড) পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতি ডলারে ১ টাকা, ইউরোয় ৩ টাকা ও ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ড স্টার্লিংয়ে ৪ টাকার বেশি মুনাফা করছে ব্যাংকগুলো। যদিও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে এ ব্যবধান দেখানো হচ্ছে ৫০ পয়সারও কম। ব্যাংকগুলোর স্প্রেড বাড়ানোর এ প্রতিযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিদেশগামীরা। উত্সাহিত হচ্ছে কার্ব মার্কেট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দর নির্ধারণ করে দেয়াটা কঠিন। তবে ২৫ থেকে ৫০ পয়সা মুনাফা করা যেতে পারে। এর বেশি হলে তা অনৈতিক। নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার কারণেই মাত্রাতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ পাচ্ছে ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংক তদারক করে এটা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারে। তা না হলে কার্ব মার্কেটের দিকে ঝুঁকে পড়বেন ক্রেতারা, কোনোভাবেই যা কাম্য নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মাহফুজুর রহমানও বলেন, এত বেশি মুনাফা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।
বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) গত ৩০ অক্টোবরের হিসাব বলছে, গড়ে প্রতি ডলার ক্রয়-বিক্রয়ে স্প্রেড ছিল ১ টাকা, ইউরোর ক্ষেত্রে ৩ টাকা ৮৯ পয়সা ও পাউন্ড স্টার্লিংয়ে ৪ টাকা। এইচএসবিসি ব্যাংক ওই দিন ডলার কেনে ৭৭ টাকা ২৫ পয়সায় ও বিক্রি হরে ৭৮ টাকা ২৫ পয়সায়। ইউরো কেনে ১০৪ টাকা ৯৬ পয়সায় ও বিক্রি করে ১০৯ টাকায়। এছাড়া পাউন্ড স্টার্লিং কেনে ১২২ টাকা ৭৮ পয়সায় ও বিক্রি করে ১২৬ টাকা ৮৩ পয়সায়। প্রায় একই হারে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করে দেশী-বিদেশী অন্যান্য ব্যাংকও।
সম্প্রতি বিদেশী মুদ্রা কিনতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় বিদেশগামী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাদিয়া চৌধুরীকে। তিনি বলেন, ‘খোলাবাজারের চেয়ে ব্যাংকে সহজেই ডলার পাওয়া যায়। তবে অন্য মুদ্রা হলে পাওয়া কঠিন। আবার পাওয়া গেলেও দাম ৪-৫ টাকা বেশি রাখা হয়। ফলে বিদেশে যাওয়ার সময় আমরা ডলারই নিয়ে যেতে বাধ্য হই। সেখানে গিয়ে স্থানীয় মুদ্রা কিনে নিই। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারক করলে এ হয়রানি থেকে মুক্তি পাওয়া যেত।’
জানা যায়, বিদেশী মুদ্রার মধ্যে বাংলাদেশে চাহিদা বেশি ডলারের। এর পরই রয়েছে ইউরো, পাউন্ড ও ইয়েন। ডলার সব ব্যাংকে পাওয়া গেলেও অন্য মুদ্রা পাওয়া যায় না। এ সুযোগে কয়েকটি ব্যাংক বেশি মুনাফা করে। বাফেদার পক্ষ থেকে সময় সময় বিনিময় হারের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হলেও তার প্রয়োগ দেখা যায় কমই।
ইস্টার্ন ও সিটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে মাহমুদ সাত্তার বলেন, আপাতদৃষ্টিতে ডলারের স্প্রেড ১ টাকার ওপরে মনে হলেও আদতে তেমনটি নয়। কারণ রফতানিসহ বিভিন্ন বাণিজ্যে সুদের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়। তার পরও সব মিলিয়ে ডলারে ৫০ পয়সার ওপরে মুনাফা করা সমীচীন হবে না। অন্যান্য মুদ্রার ক্ষেত্রেও একই হার প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
– See more at: http://bonikbarta.com/first-page/2013/11/05/21331#sthash.r5fpcehw.dpuf
Discussion about this post