দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা গত মাসে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের দুই নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে সমঝোতার উদ্যোগ নেন। কিন্তু তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেছে। এর পর রাজনৈতিক উত্তাপ আরো বেড়েছে। সহিংসতার আগুনে দগ্ধ হয়েছে সাধারণ জনগণ। পেট্রল বোমা ও ককটেলের ভয়ে রাজপথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীদের সে উদ্যোগের অন্যতম সমন্বয়কারী আবদুল আউয়াল মিন্টু গ্রেফতার হওয়ার পর হতাশ হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের পক্ষ থেকে নতুন করে আর কোনো উদ্যোগ নেয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, ‘সমঝোতা উদ্যোগের কোনো ফল পাওয়া যায়নি। দুই নেত্রীর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলাম। কিন্তু তারা ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেননি। এ কারণে দুই দলের মহাসচিব পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ায় নতুন করে আর এ বিষয়ে চিন্তা করা হয়নি।’
তবে এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সমঝোতার চেষ্টা তো করেছি। এর ফল দেখছেন রাজপথে। মানুষ পুড়ে মরছে। তবে আমরা এখন আশাবাদী তারা সমঝোতায় পৌছবেন।’
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মধ্যে ফোনালাপের পরও রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর পর গত ২৮ অক্টোবর এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান ও সাবেক সভাপতিরা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সংকট সমাধানে তারা দুই নেত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। চাপ দিতে থাকবেন সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত।
উদ্যোগের অংশ হিসেবে সংগঠনটির বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সভাপতির নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের একটি দল গত ২ নভেম্বর খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করে। বিএনপি চেয়ারপারসন দুই দলের মহাসচিব পর্যায়ে শর্তহীন আলোচনায় রাজি হন। এর পর ৭ নভেম্বর এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় আলোচনায় রাজি হন। তবে মহাসচিব পর্যায়ে বৈঠক প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সম্পাদক সবসময় প্রস্তুত। তাকে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের (বিএনপি) পক্ষে কে সিদ্ধান্ত নেবেন। কারণ তাদের মহাসচিব এখনো ভারপ্রাপ্ত।’
দুই নেত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি, সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, মীর নাসির হোসেন, আনিসুল হক, এ কে আজাদ, এমসিসিআই সভাপতি রোকিয়া আফজাল রহমান, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম, ডিসিসিআই সভাপতি সবুর খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরের দিনই খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দুই নেত্রীর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থেকে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তাকে গ্রেফতারের পর বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা ও সংগঠন মুক্তি দাবি করলেও এফবিসিসিআই ছিল নীরব ভূমিকায়। পাঁচদিন পর ১৩ নভেম্বর এফবিসিসিআই তার মুক্তি দাবি করে। এতে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির প্রতি ক্ষুব্ধ হন ব্যবসায়ী নেতারা। পরে কোনো ব্যবসায়ী নেতা এ বিষয়ে কারো সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। বিএনপিপন্থী অনেক ব্যবসায়ী এতে আশঙ্কিত হয়ে পড়েন।
জানা গেছে, আবদুল আউয়াল মিন্টু গ্রেফতারের পর কয়েকজন ব্যবসায়ী যৌথভাবে তার মুক্তির জন্য চেষ্টার উদ্যোগ নিলেও এফবিসিসিআই তাতে রাজি হয়নি। ফলে সাবেক কয়েকজন সভাপতি এতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তারা এফবিসিসিআইকে জানিয়ে দেন, এর মাধ্যমে কোনো ফল পাওয়া যাবে না, তাই এ উদ্যোগের সঙ্গে তারা আর নেই।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সভাপতি সবুর খান জানান, এ উদ্যোগের প্রধান সমন্বয়কারী আবদুল আউয়াল মিন্টু গ্রেফতারের পর নতুন করে কেউ কারো সঙ্গে যোগাযোগ করছে না। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতিও তাত্ক্ষণিক কোনো ভূমিকা রাখেননি। এর মাধ্যমে তিনি গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন। দেশের সাম্প্রতিক এ পরিস্থিতিতে তারা হতাশ।
– See more at: http://bonikbarta.com/last-page/2013/12/01/24125#sthash.PLZIwIxW.dpuf
Discussion about this post