• Home
  • Who Am I
Sunday, February 1, 2026
  • Login
Shanaullah Sakib
  • Home
  • নতুন ব্যাংক
  • বেসরকারী ব্যাংক
  • ব্যাংক দুর্নীতি
  • ব্যাংকের চলতি ঘটনা
  • সরকারী ব্যাংক
  • সাক্ষাত্কার
No Result
View All Result
  • Home
  • নতুন ব্যাংক
  • বেসরকারী ব্যাংক
  • ব্যাংক দুর্নীতি
  • ব্যাংকের চলতি ঘটনা
  • সরকারী ব্যাংক
  • সাক্ষাত্কার
No Result
View All Result
Shanaullah Sakib
No Result
View All Result

অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদক; সিদ্ধান্তহীনতায় অন্ধকূপে বেসিক ব্যাংক

admin by admin
March 27, 2014
in ব্যাংকের চলতি ঘটনা
0
রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যবস্থা গ্রহণের আগ্রহ দেখিয়েও পিছিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফলে অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ব্যাংকটির পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে। হতাশ হয়ে পড়ছেন একসময় সুনামের সঙ্গে পরিচালিত ব্যাংকটির কর্মীরা।
তিনটি শাখা থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা অনিয়মের পর বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সমঝোতাপত্রে নয়টি শর্ত পরিপালনের কথা উল্লেখ থাকলেও এর সাতটিই অর্জন করতে পারেনি বেসিক ব্যাংক। ডিসেম্বরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৬৩ শতাংশের মধ্যে রাখার শর্ত থাকলেও তা হয়েছে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। সমঝোতা মেনে ঋণ সীমার মধ্যে রাখতে না পারায় ব্যাংকটিকে ১০ কোটি ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা মওকুফের আবেদন করেছে বেসিক ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার কথা ভাবছে। তার পরও জরিমানা যদি গুনতেই হয়, তাহলে তা যাবে সরকারের আমানত থেকেই। কারণ ব্যাংকটির আমানতের ৭৪ শতাংশই সরকারি।
অন্যান্য শর্তের মধ্যে মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিএআর) ১১ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও বেসিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতিও বেড়ে হয়েছে ৬৪৭ কোটি টাকা। নন-পারফরমিং ঋণের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা থাকলেও বেসিক ব্যাংকে এখনো তা ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এদিকে সোনালী ব্যাংকে অনিয়মের ঘটনায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার সুপারিশ করা হলেও বেসিক ব্যাংকের বেলায় সে পথে হাঁটেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে শৃঙ্খলাও ফেরেনি। ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় এক উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) তিন মাস আগে রাজশাহীতে বদলি করা হলেও তিনি কর্মস্থলে যাচ্ছেন না। গত ২১ ডিসেম্বর বেসিক ব্যাংকের দুই ডিএমডি মোনায়েম খান ও আবদুল কাইয়ুম মোহাম্মদ কিবরিয়াকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। মোনায়েম খানকে বদলি করা হয় রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে এবং আবদুল কাইয়ুম মোহাম্মদ কিবরিয়াকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। কিন্তু মোনায়েম খানকে গত তিন মাসেও কর্মস্থলে পাননি রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের শাখা ব্যবস্থাপকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ মার্চ এ কর্মকর্তার ব্যাখ্যা তলব করেছেন বেসিক ব্যাংকের এমডি। এছাড়া জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে দুই মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) ডিমডি পদে পদোন্নতিও দিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
বিশৃঙ্খল এ পরিস্থিতি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে ব্যাংকটির সাধারণ কর্মীদের। তারা বলছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কেউ কোনো নির্দেশনা মানছেন না। বছর শেষে বোনাস হবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে সংশয় ।
গুলশান শাখার অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারায় নোটিস পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার জবাবও সময়মতো দেয়নি ব্যাংকটি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এজন্য ১৫ দিন সময় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারায় যেকোনো ব্যাংকের এমডিকে অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।
এদিকে অনিয়ম তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে ১২ মার্চ বেসিক ব্যাংকে নোটিস পাঠান অনুসন্ধান কর্মকর্তা। কিন্তু ওপর মহলের চাপে পরদিনই তা ফেরত আনা হয়। এতে থেমে যায় তদন্ত কার্যক্রমও। দুদকের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক আবুল হোসেন জানান, কমিশনের নির্দেশে বেসিক ব্যাংক থেকে নোটিসটি ফেরত আনা হয়েছে।
২০১১ সালের ডিসেম্বরে বেসিক ব্যাংকে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এক বছরের বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেননি অনুসন্ধান কর্মকর্তারা। পরে অন্য এক উপপরিচালকের নেতৃত্বে নতুন একটি দলকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তারাও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারলে ২০১২ সালের মার্চে আবারো তদন্ত দলে পরিবর্তন আনা হয়। নতুন কমিটিও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, কোনোভাবেই ব্যাংকটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। সমঝোতা চুক্তি, পর্যবেক্ষক নিয়োগ, এমডিকে ৪৬ ধারায় নোটিস সবই দেয়া হয়েছে। এর পরও আগের ধারায়ই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কিছু বলছে না। পরিচালনা পর্ষদের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানোই বাকি রয়েছে কেবল।
উল্লেখ্য, অনিয়মের পর বেসিক ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০১৩ সালের ১৬ জুলাই সমঝোতা স্মারক সই করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেসিক ব্যাংকের পক্ষে এতে সই করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও এমডি  কাজী ফখরুল ইসলাম। এরপর ব্যাংকটির কার্যক্রম নজরে রাখতে গত ২৭ নভেম্বর একজন মহাব্যবস্থাপককে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

– See more at: http://bonikbarta.com/first-page/2014/03/25/35761#sthash.380xqgGG.dpuf

 Image

 

রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যবস্থা গ্রহণের আগ্রহ দেখিয়েও পিছিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফলে অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ব্যাংকটির পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে। হতাশ হয়ে পড়ছেন একসময় সুনামের সঙ্গে পরিচালিত ব্যাংকটির কর্মীরা।
তিনটি শাখা থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা অনিয়মের পর বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সমঝোতাপত্রে নয়টি শর্ত পরিপালনের কথা উল্লেখ থাকলেও এর সাতটিই অর্জন করতে পারেনি বেসিক ব্যাংক। ডিসেম্বরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৬৩ শতাংশের মধ্যে রাখার শর্ত থাকলেও তা হয়েছে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। সমঝোতা মেনে ঋণ সীমার মধ্যে রাখতে না পারায় ব্যাংকটিকে ১০ কোটি ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা মওকুফের আবেদন করেছে বেসিক ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার কথা ভাবছে। তার পরও জরিমানা যদি গুনতেই হয়, তাহলে তা যাবে সরকারের আমানত থেকেই। কারণ ব্যাংকটির আমানতের ৭৪ শতাংশই সরকারি।
অন্যান্য শর্তের মধ্যে মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিএআর) ১১ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও বেসিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতিও বেড়ে হয়েছে ৬৪৭ কোটি টাকা। নন-পারফরমিং ঋণের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা থাকলেও বেসিক ব্যাংকে এখনো তা ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এদিকে সোনালী ব্যাংকে অনিয়মের ঘটনায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার সুপারিশ করা হলেও বেসিক ব্যাংকের বেলায় সে পথে হাঁটেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে শৃঙ্খলাও ফেরেনি। ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় এক উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) তিন মাস আগে রাজশাহীতে বদলি করা হলেও তিনি কর্মস্থলে যাচ্ছেন না। গত ২১ ডিসেম্বর বেসিক ব্যাংকের দুই ডিএমডি মোনায়েম খান ও আবদুল কাইয়ুম মোহাম্মদ কিবরিয়াকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। মোনায়েম খানকে বদলি করা হয় রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে এবং আবদুল কাইয়ুম মোহাম্মদ কিবরিয়াকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। কিন্তু মোনায়েম খানকে গত তিন মাসেও কর্মস্থলে পাননি রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের শাখা ব্যবস্থাপকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ মার্চ এ কর্মকর্তার ব্যাখ্যা তলব করেছেন বেসিক ব্যাংকের এমডি। এছাড়া জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে দুই মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) ডিমডি পদে পদোন্নতিও দিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
বিশৃঙ্খল এ পরিস্থিতি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে ব্যাংকটির সাধারণ কর্মীদের। তারা বলছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কেউ কোনো নির্দেশনা মানছেন না। বছর শেষে বোনাস হবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে সংশয় ।
গুলশান শাখার অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারায় নোটিস পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার জবাবও সময়মতো দেয়নি ব্যাংকটি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এজন্য ১৫ দিন সময় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারায় যেকোনো ব্যাংকের এমডিকে অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।
এদিকে অনিয়ম তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে ১২ মার্চ বেসিক ব্যাংকে নোটিস পাঠান অনুসন্ধান কর্মকর্তা। কিন্তু ওপর মহলের চাপে পরদিনই তা ফেরত আনা হয়। এতে থেমে যায় তদন্ত কার্যক্রমও। দুদকের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক আবুল হোসেন জানান, কমিশনের নির্দেশে বেসিক ব্যাংক থেকে নোটিসটি ফেরত আনা হয়েছে।
২০১১ সালের ডিসেম্বরে বেসিক ব্যাংকে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এক বছরের বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেননি অনুসন্ধান কর্মকর্তারা। পরে অন্য এক উপপরিচালকের নেতৃত্বে নতুন একটি দলকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তারাও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারলে ২০১২ সালের মার্চে আবারো তদন্ত দলে পরিবর্তন আনা হয়। নতুন কমিটিও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, কোনোভাবেই ব্যাংকটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। সমঝোতা চুক্তি, পর্যবেক্ষক নিয়োগ, এমডিকে ৪৬ ধারায় নোটিস সবই দেয়া হয়েছে। এর পরও আগের ধারায়ই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কিছু বলছে না। পরিচালনা পর্ষদের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানোই বাকি রয়েছে কেবল।
উল্লেখ্য, অনিয়মের পর বেসিক ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০১৩ সালের ১৬ জুলাই সমঝোতা স্মারক সই করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেসিক ব্যাংকের পক্ষে এতে সই করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও এমডি  কাজী ফখরুল ইসলাম। এরপর ব্যাংকটির কার্যক্রম নজরে রাখতে গত ২৭ নভেম্বর একজন মহাব্যবস্থাপককে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

– See more at: http://bonikbarta.com/first-page/2014/03/25/35761#sthash.380xqgGG.dpuf

রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যবস্থা গ্রহণের আগ্রহ দেখিয়েও পিছিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফলে অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ব্যাংকটির পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে। হতাশ হয়ে পড়ছেন একসময় সুনামের সঙ্গে পরিচালিত ব্যাংকটির কর্মীরা।
তিনটি শাখা থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা অনিয়মের পর বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সমঝোতাপত্রে নয়টি শর্ত পরিপালনের কথা উল্লেখ থাকলেও এর সাতটিই অর্জন করতে পারেনি বেসিক ব্যাংক। ডিসেম্বরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৬৩ শতাংশের মধ্যে রাখার শর্ত থাকলেও তা হয়েছে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। সমঝোতা মেনে ঋণ সীমার মধ্যে রাখতে না পারায় ব্যাংকটিকে ১০ কোটি ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা মওকুফের আবেদন করেছে বেসিক ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার কথা ভাবছে। তার পরও জরিমানা যদি গুনতেই হয়, তাহলে তা যাবে সরকারের আমানত থেকেই। কারণ ব্যাংকটির আমানতের ৭৪ শতাংশই সরকারি।
অন্যান্য শর্তের মধ্যে মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিএআর) ১১ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও বেসিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতিও বেড়ে হয়েছে ৬৪৭ কোটি টাকা। নন-পারফরমিং ঋণের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা থাকলেও বেসিক ব্যাংকে এখনো তা ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এদিকে সোনালী ব্যাংকে অনিয়মের ঘটনায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার সুপারিশ করা হলেও বেসিক ব্যাংকের বেলায় সে পথে হাঁটেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে শৃঙ্খলাও ফেরেনি। ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় এক উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) তিন মাস আগে রাজশাহীতে বদলি করা হলেও তিনি কর্মস্থলে যাচ্ছেন না। গত ২১ ডিসেম্বর বেসিক ব্যাংকের দুই ডিএমডি মোনায়েম খান ও আবদুল কাইয়ুম মোহাম্মদ কিবরিয়াকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। মোনায়েম খানকে বদলি করা হয় রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে এবং আবদুল কাইয়ুম মোহাম্মদ কিবরিয়াকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। কিন্তু মোনায়েম খানকে গত তিন মাসেও কর্মস্থলে পাননি রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের শাখা ব্যবস্থাপকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ মার্চ এ কর্মকর্তার ব্যাখ্যা তলব করেছেন বেসিক ব্যাংকের এমডি। এছাড়া জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে দুই মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) ডিমডি পদে পদোন্নতিও দিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
বিশৃঙ্খল এ পরিস্থিতি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে ব্যাংকটির সাধারণ কর্মীদের। তারা বলছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কেউ কোনো নির্দেশনা মানছেন না। বছর শেষে বোনাস হবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে সংশয় ।
গুলশান শাখার অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারায় নোটিস পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার জবাবও সময়মতো দেয়নি ব্যাংকটি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এজন্য ১৫ দিন সময় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারায় যেকোনো ব্যাংকের এমডিকে অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।
এদিকে অনিয়ম তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে ১২ মার্চ বেসিক ব্যাংকে নোটিস পাঠান অনুসন্ধান কর্মকর্তা। কিন্তু ওপর মহলের চাপে পরদিনই তা ফেরত আনা হয়। এতে থেমে যায় তদন্ত কার্যক্রমও। দুদকের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক আবুল হোসেন জানান, কমিশনের নির্দেশে বেসিক ব্যাংক থেকে নোটিসটি ফেরত আনা হয়েছে।
২০১১ সালের ডিসেম্বরে বেসিক ব্যাংকে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এক বছরের বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেননি অনুসন্ধান কর্মকর্তারা। পরে অন্য এক উপপরিচালকের নেতৃত্বে নতুন একটি দলকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তারাও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারলে ২০১২ সালের মার্চে আবারো তদন্ত দলে পরিবর্তন আনা হয়। নতুন কমিটিও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, কোনোভাবেই ব্যাংকটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। সমঝোতা চুক্তি, পর্যবেক্ষক নিয়োগ, এমডিকে ৪৬ ধারায় নোটিস সবই দেয়া হয়েছে। এর পরও আগের ধারায়ই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কিছু বলছে না। পরিচালনা পর্ষদের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানোই বাকি রয়েছে কেবল।
উল্লেখ্য, অনিয়মের পর বেসিক ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০১৩ সালের ১৬ জুলাই সমঝোতা স্মারক সই করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেসিক ব্যাংকের পক্ষে এতে সই করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও এমডি  কাজী ফখরুল ইসলাম। এরপর ব্যাংকটির কার্যক্রম নজরে রাখতে গত ২৭ নভেম্বর একজন মহাব্যবস্থাপককে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

– See more at: http://bonikbarta.com/first-page/2014/03/25/35761#sthash.380xqgGG.dpuf

রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যবস্থা গ্রহণের আগ্রহ দেখিয়েও পিছিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফলে অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ব্যাংকটির পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে। হতাশ হয়ে পড়ছেন একসময় সুনামের সঙ্গে পরিচালিত ব্যাংকটির কর্মীরা।
তিনটি শাখা থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা অনিয়মের পর বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সমঝোতাপত্রে নয়টি শর্ত পরিপালনের কথা উল্লেখ থাকলেও এর সাতটিই অর্জন করতে পারেনি বেসিক ব্যাংক। ডিসেম্বরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৬৩ শতাংশের মধ্যে রাখার শর্ত থাকলেও তা হয়েছে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। সমঝোতা মেনে ঋণ সীমার মধ্যে রাখতে না পারায় ব্যাংকটিকে ১০ কোটি ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা মওকুফের আবেদন করেছে বেসিক ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার কথা ভাবছে। তার পরও জরিমানা যদি গুনতেই হয়, তাহলে তা যাবে সরকারের আমানত থেকেই। কারণ ব্যাংকটির আমানতের ৭৪ শতাংশই সরকারি।
অন্যান্য শর্তের মধ্যে মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিএআর) ১১ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও বেসিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতিও বেড়ে হয়েছে ৬৪৭ কোটি টাকা। নন-পারফরমিং ঋণের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা থাকলেও বেসিক ব্যাংকে এখনো তা ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এদিকে সোনালী ব্যাংকে অনিয়মের ঘটনায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার সুপারিশ করা হলেও বেসিক ব্যাংকের বেলায় সে পথে হাঁটেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে শৃঙ্খলাও ফেরেনি। ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় এক উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) তিন মাস আগে রাজশাহীতে বদলি করা হলেও তিনি কর্মস্থলে যাচ্ছেন না। গত ২১ ডিসেম্বর বেসিক ব্যাংকের দুই ডিএমডি মোনায়েম খান ও আবদুল কাইয়ুম মোহাম্মদ কিবরিয়াকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। মোনায়েম খানকে বদলি করা হয় রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে এবং আবদুল কাইয়ুম মোহাম্মদ কিবরিয়াকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। কিন্তু মোনায়েম খানকে গত তিন মাসেও কর্মস্থলে পাননি রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের শাখা ব্যবস্থাপকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ মার্চ এ কর্মকর্তার ব্যাখ্যা তলব করেছেন বেসিক ব্যাংকের এমডি। এছাড়া জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে দুই মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) ডিমডি পদে পদোন্নতিও দিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
বিশৃঙ্খল এ পরিস্থিতি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে ব্যাংকটির সাধারণ কর্মীদের। তারা বলছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কেউ কোনো নির্দেশনা মানছেন না। বছর শেষে বোনাস হবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে সংশয় ।
গুলশান শাখার অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারায় নোটিস পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার জবাবও সময়মতো দেয়নি ব্যাংকটি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এজন্য ১৫ দিন সময় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারায় যেকোনো ব্যাংকের এমডিকে অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।
এদিকে অনিয়ম তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে ১২ মার্চ বেসিক ব্যাংকে নোটিস পাঠান অনুসন্ধান কর্মকর্তা। কিন্তু ওপর মহলের চাপে পরদিনই তা ফেরত আনা হয়। এতে থেমে যায় তদন্ত কার্যক্রমও। দুদকের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক আবুল হোসেন জানান, কমিশনের নির্দেশে বেসিক ব্যাংক থেকে নোটিসটি ফেরত আনা হয়েছে।
২০১১ সালের ডিসেম্বরে বেসিক ব্যাংকে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এক বছরের বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেননি অনুসন্ধান কর্মকর্তারা। পরে অন্য এক উপপরিচালকের নেতৃত্বে নতুন একটি দলকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তারাও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারলে ২০১২ সালের মার্চে আবারো তদন্ত দলে পরিবর্তন আনা হয়। নতুন কমিটিও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, কোনোভাবেই ব্যাংকটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। সমঝোতা চুক্তি, পর্যবেক্ষক নিয়োগ, এমডিকে ৪৬ ধারায় নোটিস সবই দেয়া হয়েছে। এর পরও আগের ধারায়ই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কিছু বলছে না। পরিচালনা পর্ষদের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানোই বাকি রয়েছে কেবল।
উল্লেখ্য, অনিয়মের পর বেসিক ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০১৩ সালের ১৬ জুলাই সমঝোতা স্মারক সই করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেসিক ব্যাংকের পক্ষে এতে সই করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও এমডি  কাজী ফখরুল ইসলাম। এরপর ব্যাংকটির কার্যক্রম নজরে রাখতে গত ২৭ নভেম্বর একজন মহাব্যবস্থাপককে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

– See more at: http://bonikbarta.com/first-page/2014/03/25/35761#sthash.380xqgGG.dpuf

রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যবস্থা গ্রহণের আগ্রহ দেখিয়েও পিছিয়ে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফলে অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ব্যাংকটির পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপ হচ্ছে। হতাশ হয়ে পড়ছেন একসময় সুনামের সঙ্গে পরিচালিত ব্যাংকটির কর্মীরা।
তিনটি শাখা থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা অনিয়মের পর বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সমঝোতাপত্রে নয়টি শর্ত পরিপালনের কথা উল্লেখ থাকলেও এর সাতটিই অর্জন করতে পারেনি বেসিক ব্যাংক। ডিসেম্বরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৬৩ শতাংশের মধ্যে রাখার শর্ত থাকলেও তা হয়েছে ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। সমঝোতা মেনে ঋণ সীমার মধ্যে রাখতে না পারায় ব্যাংকটিকে ১০ কোটি ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা মওকুফের আবেদন করেছে বেসিক ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার কথা ভাবছে। তার পরও জরিমানা যদি গুনতেই হয়, তাহলে তা যাবে সরকারের আমানত থেকেই। কারণ ব্যাংকটির আমানতের ৭৪ শতাংশই সরকারি।
অন্যান্য শর্তের মধ্যে মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিএআর) ১১ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও বেসিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতিও বেড়ে হয়েছে ৬৪৭ কোটি টাকা। নন-পারফরমিং ঋণের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা থাকলেও বেসিক ব্যাংকে এখনো তা ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এদিকে সোনালী ব্যাংকে অনিয়মের ঘটনায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার সুপারিশ করা হলেও বেসিক ব্যাংকের বেলায় সে পথে হাঁটেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে শৃঙ্খলাও ফেরেনি। ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় এক উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) তিন মাস আগে রাজশাহীতে বদলি করা হলেও তিনি কর্মস্থলে যাচ্ছেন না। গত ২১ ডিসেম্বর বেসিক ব্যাংকের দুই ডিএমডি মোনায়েম খান ও আবদুল কাইয়ুম মোহাম্মদ কিবরিয়াকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। মোনায়েম খানকে বদলি করা হয় রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে এবং আবদুল কাইয়ুম মোহাম্মদ কিবরিয়াকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। কিন্তু মোনায়েম খানকে গত তিন মাসেও কর্মস্থলে পাননি রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের শাখা ব্যবস্থাপকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ মার্চ এ কর্মকর্তার ব্যাখ্যা তলব করেছেন বেসিক ব্যাংকের এমডি। এছাড়া জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে দুই মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) ডিমডি পদে পদোন্নতিও দিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
বিশৃঙ্খল এ পরিস্থিতি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে ব্যাংকটির সাধারণ কর্মীদের। তারা বলছেন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। কেউ কোনো নির্দেশনা মানছেন না। বছর শেষে বোনাস হবে কিনা, তা নিয়েও রয়েছে সংশয় ।
গুলশান শাখার অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারায় নোটিস পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তার জবাবও সময়মতো দেয়নি ব্যাংকটি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এজন্য ১৫ দিন সময় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারায় যেকোনো ব্যাংকের এমডিকে অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।
এদিকে অনিয়ম তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে ১২ মার্চ বেসিক ব্যাংকে নোটিস পাঠান অনুসন্ধান কর্মকর্তা। কিন্তু ওপর মহলের চাপে পরদিনই তা ফেরত আনা হয়। এতে থেমে যায় তদন্ত কার্যক্রমও। দুদকের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক আবুল হোসেন জানান, কমিশনের নির্দেশে বেসিক ব্যাংক থেকে নোটিসটি ফেরত আনা হয়েছে।
২০১১ সালের ডিসেম্বরে বেসিক ব্যাংকে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এক বছরের বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেননি অনুসন্ধান কর্মকর্তারা। পরে অন্য এক উপপরিচালকের নেতৃত্বে নতুন একটি দলকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তারাও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারলে ২০১২ সালের মার্চে আবারো তদন্ত দলে পরিবর্তন আনা হয়। নতুন কমিটিও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, কোনোভাবেই ব্যাংকটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। সমঝোতা চুক্তি, পর্যবেক্ষক নিয়োগ, এমডিকে ৪৬ ধারায় নোটিস সবই দেয়া হয়েছে। এর পরও আগের ধারায়ই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কিছু বলছে না। পরিচালনা পর্ষদের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানোই বাকি রয়েছে কেবল।
উল্লেখ্য, অনিয়মের পর বেসিক ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০১৩ সালের ১৬ জুলাই সমঝোতা স্মারক সই করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেসিক ব্যাংকের পক্ষে এতে সই করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু ও এমডি  কাজী ফখরুল ইসলাম। এরপর ব্যাংকটির কার্যক্রম নজরে রাখতে গত ২৭ নভেম্বর একজন মহাব্যবস্থাপককে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

– See more at: http://bonikbarta.com/first-page/2014/03/25/35761#sthash.380xqgGG.dpuf

Tags: basic bank
Previous Post

বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ নাজুক পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামে ব্যাংকিং ব্যবসা

Next Post

প্রাইম ব্যাংক; সিএসআরের অর্থে ক্রিকেট বিলাস

Next Post

প্রাইম ব্যাংক; সিএসআরের অর্থে ক্রিকেট বিলাস

Discussion about this post

No Result
View All Result

Recent Posts

  • রন ও রিকের ক্রেডিট কার্ড বাতিলের উদ্যোগ
  • ক্রেডিট কার্ডে এত ডলার পাচার হলো কীভাবে
  • ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডির পদত্যাগের নেপথ্যে সিকদারদের ক্রেডিট কার্ড
  • অবৈধ ব্যাংকিং বন্ধে কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক
  • বড় হচ্ছে ভারী যন্ত্রের ব্যবসা
  • ব্যাংকের সুদ: এক ভুলের মাশুল দিতে আরেক ভুল
Shanaullah Sakib

© 2021 Shanaullah Sakib.

Navigate Site

  • Home
  • Who Am I

Follow Us

No Result
View All Result
  • Home
  • নতুন ব্যাংক
  • বেসরকারী ব্যাংক
  • ব্যাংক দুর্নীতি
  • ব্যাংকের চলতি ঘটনা
  • সরকারী ব্যাংক
  • সাক্ষাত্কার

© 2021 Shanaullah Sakib.

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In