কোনো ব্যাংকে এক পরিবার থেকে দুজনের বেশি সদস্য একই সময় পরিচালক হিসেবে থাকতে পারবেন না— এ বিধান রেখে সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনের গেজেট প্রকাশ হয় গত বছরের ২২ জুলাই। তবে আইন পরিপালনের লক্ষ্যে এক বছরের জন্য এতে ছাড় দেয়া হয়। ২২ জুলাই এ সুযোগ শেষ হয়ে গেছে। তার পরও বেসরকারি খাতের দ্য সিটি ও ন্যাশনাল ব্যাংকে এখনো পাঁচটি করে পরিচালক পদ ধরে রেখেছে এমএ হাশেম ও জয়নুল হক শিকদারের পরিবার। বাংলাদেশ ব্যাংক আইনটি পরিপালনে তাদের চিঠি দিলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
আইনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন কার্যকর হওয়ার এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর কোনো একক পরিবার থেকে দুজনের বেশি সদস্য একই সময়ে ব্যাংকে অধিষ্ঠিত থাকবেন না। ২২ জুলাই এক বছর অতিবাহিত হয়েছে। অথচ একই পরিবারভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও দ্য সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন রুবেল আজিজ এবং পরিচালক আজিজ আল কায়সার, আজিজ আল মাহমুদ, তাবাসসুম কায়সার ও সৈয়দা শাইরিন আজিজ। একইভাবে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন জয়নুল হক শিকদার এবং পরিচালক মনোয়ারা শিকদার, পারভীন হক শিকদার, রিক হক শিকদার ও রণ হক শিকদার। একই পরিবারের সদস্য তারাও।
আইনজীবী সাজ্জাদ জহিরের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, আইন লঙ্ঘন করে যারা পদ ধরে রাখছেন, তারা সুদূরপ্রসারী চিন্তা করছেন না। এভাবে চলতে থাকলে দেশের ব্যাংকিং খাত দুর্বল হয়ে পড়বে। ব্যাংকগুলোয় সুশাসন নিশ্চিত করতে এখনই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় আইনটি পরিপালনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি আইন পরিপালনে চিঠি পাঠায় ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগও। কিন্তু এর জবাব দেয়নি সিটি ও ন্যাশনাল ব্যাংক।
দ্য সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা মাশরুর আরেফিন বলেন, ‘বিষয়টি ব্যাংকের পরিচালকসংক্রান্ত। এটা একান্তই তাদের নিজস্ব বিষয়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখছেন। তিনি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ-সংক্রান্ত আইন মানার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে আমরা জেনেছি।’
ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম শফিকুর রহমান বলেন, এটা বাংলাদেশ ব্যাংক জানে। তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের আলোচনা চলছে। পর্ষদই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, একই পরিবার থেকে দুজনের বেশি পরিচালক থাকার বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। তবে এ দুই পরিবারের কেউ মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে তা আমলে নেয়া হবে না।
আইনের প্রতিটি বিষয় পরিপালন হচ্ছে কিনা, বাংলাদেশ ব্যাংককে তা নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, একই পরিবার থেকে দুজনের বেশি পরিচালক থাকলে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই।
Discussion about this post