লকপুর গ্রুপের মুনস্টারের ঋণপ্রস্তাব অনুমোদনের জন্য জনতা ব্যাংকের পর্ষদে উত্থাপন করা হয় ৫ নভেম্বর। ঋণটি অনুমোদনের বিষয়ে তীব্র আপত্তি তোলেন কয়েকজন পরিচালক। এর পরও ঋণপ্রস্তাবটি অনুমোদন হয় পর্ষদ সভায়। নিজের আপত্তির বিষয়টি সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখের দাবি জানান ব্যাংকটির পরিচালক একেএম কামরুল ইসলাম এফসিএ। তার পরও কার্যবিবরণীতে তা উল্লেখ করা হয়নি। নিজের আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরে শেষ পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন এ পরিচালক।
এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে গভর্নর ড. আতিউর রহমান দেশে না থাকায় এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, এ বিষয়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, নিয়ম মেনেই ঋণ বিতরণ করা হবে। পরিচালকের আপত্তির বিষয়টি সুরাহার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ নওশাদ আলী চৌধুরী। তবে এ ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।
আর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘যখন ব্যাংকের একজন পরিচালক সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন, তখন সভার কার্যবিবরণীতে তা উল্লেখ থাকার বিধান রয়েছে। তা হয়নি উল্লেখ করে একজন পরিচালক যেহেতু চিঠি দিয়েছেন, তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিগগিরই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।’
জানা গেছে, ৫ নভেম্বর জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান শেখ মো. ওয়াহিদুজ্জামান। ব্যাংকের বেশির ভাগ পরিচালকই এতে উপস্থিত ছিলেন। সভায় লকপুর গ্রুপের মুনস্টারের ঋণপ্রস্তাবটি উত্থাপন করা হলে কয়েকজন পরিচালক আপত্তি জানিয়ে বলেন, একই গ্রুপ সোনালী ব্যাংকের ঋণ শোধ করতে পারছে না। এ কারণে ঋণটি ব্লক হিসেবে রাখা হয়েছে। তাছাড়া এ ঋণ অনুমোদন হলে ব্যাংকের একক ঋণগ্রহীতা সীমাও লঙ্ঘিত হবে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। এ কারণে তারা ঋণপ্রস্তাবটি বাতিলের দাবি জানান। এর পরও পর্ষদে পাস হয় প্রস্তাবটি।
উল্লেখ্য, একক ঋণগ্রহীতার সীমা ৫৫৪ কোটি টাকা।
ঋণপ্রস্তাবটির বিষয়ে নিজের আপত্তির কথা জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে একেএম কামরুল ইসলাম জানান, ব্যাংকের পর্ষদ সভায় লকপুর গ্রুপের ঋণপ্রস্তাবে কয়েকজন পরিচালক আপত্তি তুললেও তা পাস করা হয়। আমি নিজের আপত্তির বিষয়টি কার্যবিবরণীতে উল্লেখ রাখার জন্য বললেও তা রাখা হয়নি।
একেএম কামরুল ইসলামের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে আইনগত কারণে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারেন না তিনি।
লকপুর গ্রুপের কর্ণধার সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম আমজাদ হোসেন। গ্রুপটির অধীন ২২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০১২ সালে অনুমোদন পাওয়া সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের উদ্যোক্তা তিনি। মূলত চিংড়ি রফতানির মাধ্যমে তার ব্যবসা শুরু।
যোগাযোগ করা হলে জনতা ব্যাংকে ঋণপ্রস্তাবের বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
ব্যাংকিং বিভাগ সূত্র জানায়, জনতা ব্যাংকের পরিচালকের চিঠি পাওয়ার পর ব্যাংকিং সচিব এম আসলাম আলম নিজেই এ বিষয়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শেখ মো. ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ব্যাংকিং বিভাগ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, ব্যাংকের পরিচালনাগত বিষয় দেখভালের দায়িত্ব পরিচালনা পর্ষদের। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হলে তার দায়ভারও পর্ষদের। এজন্য তাদের সঙ্গে চুক্তিও করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নিয়মকানুন মেনে ঋণ বিতরণের আশ্বাস দেন।

Discussion about this post