শ্রীলঙ্কার লাফ্স হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান ডব্লিউ কে এ এইচ ওয়েগাপিটি। খনিজ সম্পদ ব্যবসার মাধ্যমে ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করে গ্রুপটি। এরপর ধীরে ধীরে সুপার শপ, রিয়েল এস্টেট ও তারকা হোটেল ব্যবসাতেও মনোযোগী হয়ে ওঠে। শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও দুবাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারেও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বড় সরবরাহকারী লাফ্স গ্যাস। বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনায় রয়েছে লাফ্স গ্যাস বাংলাদেশ নামে পৃথক প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সানাউল্লাহ সাকিব
প্রথম আলো: বাংলাদেশে এলপিজি বাজারের ভবিষ্যৎ কেমন?
এ এইচ ওয়েগাপিটি: বাজারের তথ্যের ভিত্তিতে আমার ধারণা, বাংলাদেশে প্রতি মাসে ২ লাখ মেট্রিক টনের বেশি এলপিজি ব্যবহৃত হচ্ছে না। এটা এশিয়ার অন্য দেশের তুলনায় খুবই নগণ্য। এর কারণ বাংলাদেশ বড় অংশই প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু তা ধীরে ধীরে কমে আসছে। এ জন্য বিকল্প জ্বালানি এলপিজি। জনগণ ও জ্বালানি ব্যবহারের তথ্য দেখে মনে হয়, বাংলাদেশে আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যে ২ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহৃত হবে। কারণ, শ্রীলঙ্কায় আমরা ২ কোটি জনগণ ব্যবহার করছি আড়াই লাখ মেট্রিক টন এলপিজি। এটা ৫-১০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হওয়ার আশা করছি। এর ধারাবাহিকতায় আমরা বলতে পারি বাংলাদেশে ২ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহৃত হবে। এ লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। এ জন্য বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। বাংলাদেশে শিল্প খাতের পুরোটাই প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর। তাদের এলপিজিতে স্থানান্তর করতে হবে। এ ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
প্রথম আলো: এত এলপিজি কোথা থেকে আসবে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা কি এত এলপিজি গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ করতে পারবেন?
এ এইচ ওয়েগাপিটি: আঞ্চলিক উন্নয়নের দিকে তাকান। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমার সবার এলপিজি ব্যবহার বাড়ছে। আমরা শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ প্রান্তে হাম্বানটোটায় একটি বৃহৎ হাব তৈরি করছি। সেখান থেকে সাড়ে তিন দিনে বাংলাদেশে এলপিজি নেওয়া যাবে। বাংলাদেশের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও এ সুযোগ কাজে লাগাবে। ভারত প্রতিদিন ২০ মিলিয়ন মেট্রিক টন গ্যাস ব্যবহার করছে, তা ৪০ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উত্তীর্ণ হবে। বলা যায় পুরো অঞ্চলেই এলপিজি ব্যবহারের সময় আসছে। ভারত মহাসাগরের মধ্যভাগে অবস্থান হওয়ায় লাফ্স গ্যাস বিশেষ সুবিধা পাবে। ভারতের উত্তর, দক্ষিণ, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এতে বড় সুবিধা পাবে।
প্রথম আলো: লাফসের হাম্বানটোটা প্রকল্প কবে শেষ হবে। এ থেকে বাংলাদেশ কি সুবিধা পাবে?
এ এইচ ওয়েগাপিটি: ২০১৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এর ফলে কম মূল্যে এলপিজি পাওয়া যাবে। এ জন্য আমরা বড় আকারের জাহাজ তৈরি করছি। এ প্রকল্প থেকে আমরা সহজে তা সরবরাহ করতে পারব।
প্রথম আলো: বাংলাদেশ তো দ্রুতই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল চালুর চেষ্টা করছে।
এ এইচ ওয়েগাপিটি: এলএনজি টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হতে আরও তিন বছর লাগবে। এ জন্য বড় জাহাজ লাগবে, ১০-১৫টি পয়েন্ট লাগবে। জেটি কয়েক কিলোমিটার বাড়াতে হবে। যদি অবকাঠামো সুবিধা থাকে তাহলে বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে। না হলে ভারত অথবা অন্য কারও সঙ্গে পাইপ সংযোগ থাকতে হবে। এটা ছাড়া এলএনজি টার্মিনাল ব্যবহৃত হবে না। এ জন্য অবকাঠামো নির্মাণে সময় ও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমি মনে করি, এলপিজির চাহিদা থাকবেই।
প্রথম আলো: বাংলাদেশের বড় গ্রুপগুলো এলপিজি ব্যবসায় রয়েছে। ভবিষ্যতের বাজারে তারাও তো বড় প্রতিযোগী। এটাকে কীভাবে দেখছেন?
এ এইচ ওয়েগাপিটি: বাংলাদেশে ব্যবসা করতে ২ মিলিয়ন মেট্রিক টন গ্যাস পর্যাপ্ত। আমরা কেউ কারও প্রতিযোগী হতে চাই না। সবাই একসঙ্গে কাজ করে এ খাতের উন্নতি করতে চাই।
প্রথম আলো: বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগ স্বাগত জানাচ্ছে। অন্য খাতে বিনিয়োগের কী পরিকল্পনা?
এ এইচ ওয়েগাপিটি: আমরা গুরুত্বসহকারে বাংলাদেশের বাজারকে দেখছি। আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশে আমাদের প্রথম অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করি। লুব্রিকেন্ট, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সোলার ও বায়ুবিদ্যুতে আমাদের আগ্রহ রয়েছে। এ ছাড়া আমাদের সুপার শপ ব্যবসাতেও আগ্রহ রয়েছে। সোলার বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি।
প্রথম আলো: বাংলাদেশে সিলিন্ডার উৎপাদন করার কোনো পরিকল্পনা আছে?
এ এইচ ওয়েগাপিটি: আমরা গুরুত্বসহকারে এ বিষয়টি দেখছি। আমাদের টিম এ নিয়ে কাজ করছে। নিরাপত্তা ও মানে বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই। আমরা চাই সবাই নিরাপদ সিলিন্ডার ব্যবহার করুক।
প্রথম আলো: বাংলাদেশে নতুন করে বিনিয়োগের কথা ভাবছেন?
এ এইচ ওয়েগাপিটি: আমরা ইতিমধ্যে ৪ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছি। আরও ১২ কোটি ডলার (৯৫০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ আমাদের পাইপলাইনে আছে।
প্রথম আলো: বাংলাদেশে ব্যবসা করছেন। আইনকানুন নিয়ে কোনো সমস্যা দেখছেন?
এ এইচ ওয়েগাপিটি: শ্রীলঙ্কায় এলে সহজেই ভিসা পাওয়া যায়। যেটা বাংলাদেশে নেই। পরিচালনা পর্ষদের সভা করতে প্রতি মাসে আমাদের যেতে হয়। ভিসা নিয়ে আমরা কিছুটা উদ্বিগ্ন। এ ছাড়া আর কোনো সমস্যা নেই, গুলশান হামলা ছাড়া।


Discussion about this post