রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। এতে ব্যবসায়ীরাও ব্যাংকে ফিরতে শুরু করেছেন। পুনঃতফসিল করে নিচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও পুরনো ঋণ। এতে কমে এসেছে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ। শুধু তিন মাসেই (অক্টোবর-ডিসেম্বর) খেলাপি ঋণ কমেছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, বিতরণ করা মোট ঋণের যা ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৪২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। তবে ২০১৩ সালের প্রথম নয় মাসে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। মার্চ শেষে এ হার দাঁড়ায় বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৯, জুনে ১১ দশমিক ৯১ ও সেপ্টেম্বরে ১২ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের নীতিমালায় ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুধু অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এ সুযোগ থাকলেও ব্যাংকগুলো পুরনো খেলাপি ঋণও নিয়মিত করে এ সময়। এতে অনেক ব্যাংকেরই খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক কমে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্তদের খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলে কিছুটা ছাড় দেয়া হয়েছে। তা না হলে অনেক প্রকৃত ব্যবসায়ীও বিপাকে পড়তেন। এ সময়ে অনেক ঋণ নিয়মিত হয়েছে, ফলে খেলাপি ঋণের হারও কমে এসেছে। তবে ব্যাংকগুলোকে এসব ঋণ নিয়মিত তদারকির মধ্যে রাখতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল যথাক্রমে ২৭ দশমিক শূন্য ৫, ১৮ দশমিক ৬৯, ১৭ দশমিক ১১ ও ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুবিধার পর ডিসেম্বরে তা নেমে এসেছে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ২৬, ১০ দশমিক ১৮, ১০ দশমিক ২৪ ও ৩২ দশমিক ১১ শতাংশে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ সেপ্টেম্বরে ২৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৭৬ শতাংশে।
একইভাবে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ সেপ্টেম্বরে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ থাকলেও ডিসেম্বরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশে। সেপ্টেম্বরে ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ থাকলেও ডিসেম্বরে তা কমে হয়েছে বিতরণ করা ঋণের ২ দশমিক ৯১ শতাংশ। এছাড়া বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ৭১, ব্যাংক এশিয়ার ৯ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৭৭, এনসিসির ৯ দশমিক ৫৯ থেকে ৫ দশমিক ৫৬, এক্সিমের ৭ দশমিক ৪২ থেকে ৩ দশমিক ৬৭ ও ইউসিবিএলের ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
বিদেশী ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ সেপ্টেম্বরে ৬ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ থাকলেও ডিসেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আর বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ২৯ দশমিক ৩৯ থেকে কমে হয়েছে ২৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ।
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশে (এবিবি) যোগাযোগ করা হলেও কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
– See more at: http://bonikbarta.com/last-page/2014/02/18/32470#sthash.xv15MaaP.dpuf
Discussion about this post