আর্থিক অবস্থার অবনতি, অনিয়ম ও পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্কোন্দলের কারণে এ পর্যন্ত ১২টি ব্যাংক ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের সংখ্যাই সাত। পর্যবেক্ষকরা এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ সভায় উপস্থিত থেকে সিদ্ধান্তগ্রহণে ভূমিকা রাখছেন।
পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া ১২ ব্যাংক হচ্ছে— রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা, বাংলাদেশ কৃষি, বিডিবিএল ও বেসিক ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের বাংলাদেশ কমার্স, ন্যাশনাল, মার্কেন্টাইল, ইসলামী ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুটি হলো পিপলস লিজিং ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি)।
পর্যবেক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত হলো, কোনো ব্যাংকের আর্থিক সূচক ক্যামেলস ৩-এ নেমে এলে সেখানে পর্যবেক্ষক দিতে হবে। সে অনুযায়ীই ব্যাংকগুলোয় পর্যবেক্ষক দেয়া হচ্ছে। পর্যবেক্ষক দেয়ার ফলে ব্যাংকগুলোর উন্নতি না হলেও অবস্থা আর খারাপ হচ্ছে না। কারণ পর্যবেক্ষকরা পর্ষদের সিদ্ধান্ত নিয়ে মতামত তুলে ধরছেন।
গত ১৮ নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালীতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। কারণ এ চার ব্যাংকের মুখ্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। সোনালী ও জনতার রেটিং ৪ বা প্রান্তিক। অগ্রণী ও রূপালীর রেটিং ৩ বা মোটামুটি ভালো। তবে সার্বিক বিবেচনায় সোনালীর রেটিং ৪ বা প্রান্তিক। অগ্রণী, রূপালী ও জনতার রেটিং হয়েছে ৩ বা মোটামুটি ভালো।
১০ ডিসেম্বর সরকারি খাতের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে (বিডিবিএল) পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অনিয়মের কারণে সূচকে অবনতি ঘটে বেসিক ব্যাংকের। ফলে ব্যাংকটিতেও পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। বর্তমানে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ২ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা; যা বিতরণ করা ঋণের ৪৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।
ন্যাশনাল ব্যাংক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকেও পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় অনিয়মের কারণে। বর্তমানে ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা; যা পুরো ঋণের ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আর বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫০৮ কোটি টাকা; যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এছাড়া ব্যাংকটিতে বর্তমানে মূলধন ঘাটতি ২৮৫ কোটি টাকা।
এদিকে অনিয়ম ধরা পড়ার পর থেকে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে ব্যাংকটিতে মূলধন ঘাটতি ১ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। মার্কেন্টাইল ব্যাংকেও অনিয়ম ও পরিচালনা পর্ষদে দ্বন্দ্বের জেরে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। বর্তমানে ব্যাংকটির অবস্থার উন্নতি হলেও পর্ষদ সদস্যদের দ্বন্দ্ব নিরসন না হওয়ায় সেখানে এখনো পর্যবেক্ষক বহাল আছেন। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক সূচক ভালো হলেও অবৈধ অর্থায়নের আশঙ্কায় পর্যবেক্ষক রাখা হয়েছে ব্যাংকটিতে।
প্রায় ৫০০ কোটি টাকা অনিয়মের কারণে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার লিজিংয়ে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অনিয়ম ধরা পড়ায় বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্সেও পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
পর্যবেক্ষক নিয়োগ-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, পর্যবেক্ষকরা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ক্রেডিট ও অডিট কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া যেকোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার তিন কর্মদিবস আগে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যবেক্ষকের কাছে পাঠাতে হবে। ব্যাংকের আর্থিক সূচক উন্নত না হওয়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষক সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন।
জানা গেছে, বর্তমানে সোনালীর মূলধন ঘাটতি ২ হাজার ১৫ কোটি আর জনতার ৬৬৩ কোটি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৫৩২ কোটি ও রূপালী ব্যাংকের ৩৭৪ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি রয়েছে।
বেসরকারি খাতের প্রিমিয়ার ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিং গত জুনে ছিল ৩ বা মোটামুটি ভালো। তবে দুই বছর ধরে একই রেটিংয়ে আছে ব্যাংকটি। অর্থাত্ এ সময়ে ক্যামেলস রেটিংয়ে চারবার ৩ পয়েন্টে স্থিতি চলছে ব্যাংকটিতে। এ পরিস্থিতিতে কেন ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে, এ মর্মে সতর্ক করে শেষবারের মতো ব্যাংকটিকে আর্থিক পরিস্থিতিতে উন্নতি আনার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রিমিয়ার ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় প্রতি তিন মাস অন্তর ক্যামেলস রেটিং করা হয়। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোয় করা হয় প্রতি ছয় মাস অন্তর। ব্যাংকগুলোর সার্বিক আর্থিক সূচক ক্যামেলসে মূলত পাঁচটি ধাপ রয়েছে। শক্তিশালী, সন্তোষজনক, মোটামুটি ভালো, প্রান্তিক ও অসন্তোষজনক। এসব রেটিং করা হয় পাঁচটি বিষয়ের ওপর। এগুলো হলো মূলধন পর্যাপ্ততা, সম্পদের গুণাগুণ, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, আয়ের ক্ষমতা, তারল্য অবস্থা ও বাজার স্পর্শকাতরতা। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আরো কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে ক্যামেলসে। বেসরকারি খাতের প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২০১৩ সালের জুন থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত চার অর্ধবার্ষিকে রেটিং নির্ধারণ হয়েছে ৩ বা মোটামুটি ভালো। এর পরিপ্রেক্ষিতে পর পর তিনবার প্রিমিয়ার ব্যাংককে সতর্ক করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রতিবারই দ্রুত পরিস্থিতি উন্নতির তাগিদ দেয়া হয়। সম্প্রতি ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শেষবারের মতো পরিস্থিতি উন্নতির জন্য তাগিদও দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা: রাজী হাসান এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, পর্ষদের সিদ্ধান্ত থাকলেও আমরা অনেক ব্যাংককে ভালো হওয়ার সুযোগ দিই। উন্নতি না হলে পর্যবেক্ষক দেয়া হয়। প্রিমিয়ার ব্যাংককেও এ রকম শেষ সুযোগ দেয়া হয়েছে। এবার উন্নতি না হলে পর্যবেক্ষক দেয়া হবে।
জানা গেছে, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি টাকা। এছাড়া ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৪৯ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
প্রিমিয়ার ব্যাংককে শেষ সুযোগ
বেসরকারি খাতের প্রিমিয়ার ব্যাংকের ক্যামেলস রেটিং গত জুনে ছিল ৩ বা মোটামুটি ভালো। তবে দুই বছর ধরে একই রেটিংয়ে আছে ব্যাংকটি। অর্থাত্ এ সময়ে ক্যামেলস রেটিংয়ে চারবার ৩ পয়েন্টে স্থিতি চলছে ব্যাংকটিতে। এ পরিস্থিতিতে কেন ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে, এ মর্মে সতর্ক করে শেষবারের মতো ব্যাংকটিকে আর্থিক পরিস্থিতিতে উন্নতি আনার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রিমিয়ার ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় প্রতি তিন মাস অন্তর ক্যামেলস রেটিং করা হয়। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোয় করা হয় প্রতি ছয় মাস অন্তর। ব্যাংকগুলোর সার্বিক আর্থিক সূচক ক্যামেলসে মূলত পাঁচটি ধাপ রয়েছে। শক্তিশালী, সন্তোষজনক, মোটামুটি ভালো, প্রান্তিক ও অসন্তোষজনক। এসব রেটিং করা হয় পাঁচটি বিষয়ের ওপর। এগুলো হলো মূলধন পর্যাপ্ততা, সম্পদের গুণাগুণ, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, আয়ের ক্ষমতা, তারল্য অবস্থা ও বাজার স্পর্শকাতরতা। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আরো কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে ক্যামেলসে। বেসরকারি খাতের প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২০১৩ সালের জুন থেকে চলতি বছর জুন পর্যন্ত চার অর্ধবার্ষিকে রেটিং নির্ধারণ হয়েছে ৩ বা মোটামুটি ভালো। এর পরিপ্রেক্ষিতে পর পর তিনবার প্রিমিয়ার ব্যাংককে সতর্ক করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রতিবারই দ্রুত পরিস্থিতি উন্নতির তাগিদ দেয়া হয়। সম্প্রতি ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শেষবারের মতো পরিস্থিতি উন্নতির জন্য তাগিদও দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা: রাজী হাসান এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, পর্ষদের সিদ্ধান্ত থাকলেও আমরা অনেক ব্যাংককে ভালো হওয়ার সুযোগ দিই। উন্নতি না হলে পর্যবেক্ষক দেয়া হয়। প্রিমিয়ার ব্যাংককেও এ রকম শেষ সুযোগ দেয়া হয়েছে। এবার উন্নতি না হলে পর্যবেক্ষক দেয়া হবে।
জানা গেছে, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি টাকা। এছাড়া ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৪৯ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

Discussion about this post